বসন্ত ও ভালোবাসা সংখ্যা

বসন্ত ভালোবাসা সংখ্যা

বসন্ত ও ভালোবাসা সংখ্যা

নব বসন্তের দানের

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

নব বসন্তের দানের ডালি

এনেছি তোদেরই দ্বারে,

আয় আয় আয়,

পরিবি গলার হারে ৷৷

লতার বাঁধন হারায়ে মাধবী মরিছে কেঁদে

বেণীর বাঁধনে রাখিবি বেঁধে,

অলকদোলায় দুলাবি তারে,

আয় আয় আয়।

 

এলো বনান্তে পাগল বসন্ত

কাজী নজরুল ইসলাম

এলো ঐ বনান্তে পাগল বসন্ত
বনে বনে মনে মনে রঙ সে ছড়ায় রে,

চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।।

           বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর

           পরজ-বসন্তের সুর,
পাণ্ডু-কপোলে জাগে রঙ নব অনুরাগে
রাঙা হ’ল ধূসর দিগন্ত।।

           কিশলয়ে-পর্ণে অশান্ত

           ওড়ে তা’র অঞ্চল প্রাস্ত।
পলাশ-কলিতে তা’র ফুল-ধনু লঘু-ভার,
ফুলে ফুলে হাসি অফুরন্ত।

           এলো মেলো দখিনা মলয় রে

প্রলাপ বকিছে বনময় রে।

অকারণ মন মাঝে বিরহের বেণু বাজে।
জেগে ওঠে বেদনা ঘুমন্ত।।

ফুল ফুটুক না ফুটুক

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।

শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে।

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।

আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে
তারপর খুলে–
মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে
তারপর তুলে–
যে দিনগুলো রাস্তা দিয়ে চলে গেছে
যেন না ফেরে।

গায়ে হলুদ দেওয়া বিকেলে
একটা দুটো পয়সা পেলে
যে হরবোলা ছেলেটা
কোকিল ডাকতে ডাকতে যেত
তাকে ডেকে নিয়ে গেছে দিনগুলো।

লাল কালিতে ছাপা হলদে চিঠির মত
আকাশটাকে মাথায় নিয়ে
এ-গলির এক কালোকুচ্ছিত আইবুড়ো মেয়ে
রেলিঙে বুক চেপে ধ’রে
এই সব সাত-পাঁচ ভাবছিল–

ঠিক সেই সময়
চোখের মাথা খেয়ে গায়ে উড়ে এসে বসল
আ মরণ ! পোড়ারমুখ লক্ষ্মীছাড়া প্রজাপতি !

তারপর দাড়ম করে দরজা বন্ধ হবার শব্দ।
অন্ধকারে মুখ চাপা দিয়ে
দড়িপাকানো সেই গাছ
তখন ও হাসছে।

 

ঝরাপাতার ঋণ

ফজলুল হক 

 

ফাগুন এলেই আগুন পাঠে জাগি

হৃদয় জুড়ে তোমার ছবি আঁকি।

এক ফাগুনে তোমায় আমার চেনা,

হৃদয় দিয়ে হৃদয় ছুঁয়ে প্রেমের লেনাদেনা।

আরেক ফাগুন দিচ্ছে এবার হানা,

মনের মাঝে শক্ত আসন, সিক্ত ষোলআনা। 

 

ফাগুন এলেই চিরচেনা আগুন ঝরা দিন,

বসন্তদিন শুধবে তোমায় ঝরাপাতার ঋণ।

 

শব্দে অস্ফুট          

শ্যামসুন্দর দেবনাথ

 

গভীর ভালোবাসা শব্দবৃন্তে ফোটে না 

চোখে-মুখে ছোঁয়া লেগে হৃদয়ে ঢেউ খেলে 

 

আঘাতে ভালোবাসার দাগ মুছে যায় না 

জলের ক্ষতে আরেকটি ঢেউ পাপড়ি মেলে 

 

প্রাপ্তিতে ভালোবাসা তীরে এসে থেমে যায়

সফেন বেলাভূমে অবলীলায় ক্লান্তিরা শুকায়

 

বিরহে স্মৃতিরা তুষানলে বুকে ঝলসায় 

ভালোবাসা নদী ছেড়ে হাওড়ে বাঁওড়ে লুকায়

 

টিনেজ বসন্ত

রাজু আলীম

 

চুলের সৌন্দর্যে পিছু নিল এক যুবকের পাল

করি না কখনো রূপচর্চা আমি, খুব ন্যাচারাল।

 

তবু সে কেন পিছু হাঁটে তার, বলছি গোপনে

ভাবছি সবার মধ্যে ভালোবাসা আছে, মনে মনে।

 

একটু চোখের কোণে কাজলের দিই কালো ফোঁটা

আমি কিন্তু খুব বেশি স্লিম নই, বেশ মোটাসোটা।

 

আমার বাসার পাশে আছে একটি বিউটি পার্লার

মাঝে মাঝে দেখা যায়, ছেলেগুলো আসে বারবার।

 

একটা হলুদ জামা পরে হাঁটি ওপরে গাউন

পড়ালেখা শুধু মাত্র বিবিএ'তে, নেই কোনো গুণ।

 

এখনো বাবা মায়ের মুখে দেই নাই কালি চুন

তবু নাকি আমাকে দেখে অনেকেই হয় খুন।

 

দিন তো এখন বদলেছে তাই তা ধিন তা ধিন

ইচ্ছে মতো হাঁটি চলি আমি একা, অনেক স্বাধীন।

 

যখন তখন ক্লাসে ভার্সিটিতে গল্প করি আমি

বন্ধুরাও ভালো অনেকের আছে গাড়ি নামিদামি।

 

আমি তো তেমন সুন্দরী নই শুধু ঠোঁটে লিপস্টিক

তবুও রোমিও চিনে নেয় যেন আমাকেই ঠিক।

 

ভাবছি কী হবে, পড়ালেখা করে ভবিষ্যৎ কই?

সুন্দরী হলে নাকি ছেলেরাই ধরে থাকে মই।

 

গোলাপি কমলা কত বদলাই ড্রেস, যেন পরি

দিন যায় রাত আসে থামে না তো জীবনের ঘড়ি।

 

ভাবছি মেকাপ ছেড়ে হব সাধারণ, প্রাণবন্ত

চারিদিকে ভালোবাসা ওড়ে আজ, এসেছে বসন্ত।

 

এ বসন্তে প্রকৃতি ও তুমি

খান মেহেদী মিজান

 

বস্ত্রহীন ছিন্ন শিশুর মত

বড়-ই দৈন্যতায় ছিল পাতা ঝরা

শীতের বৃক্ষগুলি

 

দেহাবরণে সবুজ বসন মাগনে

তুলেছিলে ডাল-পালা সমেত

হস্ত-অঙ্গুলি।

 

সাড়া দিল ফাগুনে সবুজ পাতায়

শোভিত পুষ্প শাখা

বসন্তে উতাল সমীরে বাঁধভাঙ্গা যৌবন

যায়না আকুতে রাখা।

বসন্ত বায় তোমারে ছুঁয়ে যায়

কানে কানে বলে ফিস ফিস

দীঘল তোমার কুন্তল উড়ায়ে

বিরহে খা খা পোড়া বুক জুড়ায়ে

নিতে সেথা সই একেলা আসিছ।

 

তুমি উতলা উন্মুখ

আমি নিঃশ্চুপে যেই হই তোমার সম্মুখ

ফাগুনের দুষ্টু পবন তোমার বুকের বসন

সরালো পলকে। তুমি দুই হাতে ঢাকো মুখ

লাজে মরো; অথচ মনে নেই খোলা বুক!

 

পত্র-পুষ্পে প্রকৃতি সাজে বসন্ত ঋতুরাজ

ভালোবাসায় তুমি লাজে মৌন,

তবু এলে আজ।

 

আজ বসন্ত! 

খান নজরুল ইসলাম 

 

আজ বসন্ত! 

দক্ষিণা মলয়ে প্রজাপতিরা ফিরে আসে বুকের জমিনে,

আতরের গন্ধ মাখে ফুল, গাছেরা সাজে নতুন বসনে!

আকাশের বুক চিড়ে নামে স্বচ্ছতা বিমুগ্ধ বাহারে 

আমি উল্কাবেগে ছুটে চলি নির্ঘুম নিভৃত আঁধারে! 

 

আজ বসন্ত! 

বাসন্তী রঙে সেজেছে তুলতুলে মায়াবী রমণীরা

আগরের গন্ধ মেখে গায়ে জোছনা ঢেলেছে তারা 

তালের শ্বাসের মতো চোখ যেন সদ্য ভিজেছে জলে

আমি মুক্তা খুঁজি আগুন নয়নে, থরোথরো বুক জ্বলে!

 

আজ বসন্ত! 

ভালোবাসি হয়নি বলা

জানি তুমিও বলবে না 

দুজনেই জানি ও মানি

ভালোবাসা, ছলাকলা!

 

মনের জানালা রাখ খোলা

ইয়াসিন আযীয

 

বসন্ত এলো প্রকৃতিতে

মনে লাগলো দোলা

ভালোবাসা দিবস এলো

মনের জানালা রাখ খোলা।

 

ভালোবাসা আসতে পারে

বসতে পারে পাশে

নইলে কিন্তু ফিরে যাবে

এমন ফাগুন মাসে।

 

ভালোবাসা পেয়ে যারা

হয়েছে চিরসুখী

এতেই তোমরা সুখে থেক

হইও না অন্যমুখী।

 

ভালোবাসা না পেয়ে যারা

করছো হাহাকার

মনের জানালা রাখ খোলা

পাবে হয়তো এবার।

 

উড়লে উড়ুক বাতাসে

ইব্রাহিম খলিল

 

হলুদ শাড়ি হলুদ ফুলে

হলুদ পরি আজকে তুই,

আগুন ঝরা ফাগুন রে আজ

ইচ্ছে করে তোকে ছুঁই।

 

ভুল করে আজ ভুল করিস না

ইচ্ছে করেই করিস ভুল,

আজ ফাগুনে রাখিস খেয়াল

নষ্ট না হয় খোপার ফুল।

 

দিসনে বাঁধা উড়তে ঘুঁড়ি

তপ্ত রোদের আকাশে,

আজ ফাগুনে মনের ঘুড়ি

উড়লে উড়ুক বাতাসে।

:::::::::::::::::::::::::

গল্প

চন্দ্রাবতী

সুলতান মাহমুদ

 

ফুলেশ্বরী নদীর পানি ফুলে ফেঁপে উঠছে। দু-কূল প্লাবিত করে সে ভাসিয়ে দিতে উদগ্রীব তার দু পাড়ের গ্রাম। চন্দ্রবতীর মনও আজ ফুলেশ্বরী নদীর মতো। তার হৃদয়ের চাপা কান্না দু চোখের পাপড়িতে এসে থেমে গেছে। সে বিয়ের শাড়ি পড়ে আকাশ পানে চেয়ে আছে। আজ তার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল দুটো চোখে প্রেমের খেলা হবে, দু হৃদয়ের মিলন হবে, কামনার নদীতে জোয়ার আসবে। সেই জোয়ারে ভেসে ভেসে ফুলেশ্বরী নদীর পাড়ে বসে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমগীত রচনা হওয়ার অপেক্ষায় ছিল তার মন। কিন্তু জয়চন্দ্র এ কী করল? চন্দ্রাবতীর প্রেমের এ নিষ্ঠুর অপমান, প্রহসনের গান, হৃদয়ে শত বল্লমের দগদগে ক্ষত। একদিকে সে চন্দ্রাবতীকে বিয়ে করে ঘরে তোলার আশ্বাস দিয়েছে অন্যদিকে সে বিয়ে করেছে আসমানীকে। চন্দ্র তোর জীবন ব্যর্থ, তুই এক ব্যর্থ নারী। বৃথাই তোর নারী জীবন, বৃথাই তোর রূপ যৌবন। তোর জীবন জ্বলে যাক বিরহ অনলে। তুই পুড়ে যা, মরে যা, ক্ষয়ে যা। তোর জীবনের আর কিবা মূল্য বাকি?

“না কাঁদে না হাসে চন্দ্রা নাহি কহে বাণী।

আছিল সুন্দরী কন্যা হইল পাষাণী॥

মনেতে ঢাকিয়া রাখে মনের আগুনে।

জানিতে না দেয় কন্যা জ্বলি মরে মনে॥”

 

চন্দ্রাবতীর বাবা মেয়ের কষ্টে হুহু করে কাঁদে। বাবাকে কাঁদতে দেখে চন্দ্রের মন শক্ত হয়ে উঠে। না সে কাঁদবে না। যে করেছে তার প্রেমের অপমান তার জন্য সে কাঁদবে না। সে পাষাণ হবে। তার চোখে থাকবে না কোনো অশ্রু। সে হবে কঠোর তপস্বী। ভগবানের তপস্যাই হবে তার জীবনের ব্রত।

ওরে মানবের প্রেমে জীবন করসিনারে ক্ষয়

প্রেমে কেবল ছলনা আছে প্রেমের পরাজয়

চন্দ্রাবতী সতী অতি বাসবে নারে আর ভালো

জগতে সবই আঁধার নাইরে কোথা নাই আলো।

 

সেই ছোট্টকাল থেকে চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র খেলার সাথী। তারা এক সাথে বড় হয়েছে। এই ফুলেশ্বরী নদীর তীরে খেলেছে, হেসেছে, গেয়েছে। জীবনের স্বপ্নগুলো একই সাথে ডানা মেলেছে। জলেশ্বরী নদিতে কত জলকেলির সুখ স্মৃতি, কলা গাছের ভেলায় ভেসে ভেসে কত আনন্দের অনুভূতি, ডিঙি নৌকায় করে কত ভরা জোছনায় ফুলেশ্বরীর অপরূপ রূপে অবগাহন, কত ভরা বরষায় ফুলেশ্বরীর স্রোতে ভেসে ভেসে জীবনের অপার্থিব সৌন্দর্য খুঁজে ফেরা কিংবা কত শীতের সন্ধ্যায় ফুলেশ্বরী নদীর তীরে বসে আগামীর স্বপ্ন বোনা। চন্দ্রাবতীর বাগানে একটি মাত্র গোলাপ ফুটেছিল। সে গোলাপের নাম জয়চন্দ্র। তাকে নিয়েই রচিত হয়েছিল তার স্বপ্নের পৃথিবী। রচিত হয়েছিলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম প্রেম-সংগীত।

এসো প্রিয় এসো

এসো নিরবে এসো গোপনে

এসো প্রেমের দরিয়ায় ডুবে যেতে

এসো প্রেমের শরাব পিয়ে এ জলপ্রপাতে

আমরা ডুবে যাব একসাথে এক সুরে

প্রেমের গান বাজবে মোদের পবিত্র হৃদয়ে।

 

জয়চন্দ্রও সাড়া দিয়েছিলো চন্দ্রাবতীর ডাকে। চোখে চোখ রেখে দিয়েছিল নির্ভরতার প্রতিশ্রুতি। বলেছিলআমার জীবনে যদি কোনো সত্য থাকে সে তুমি। আমার জীবনে যদি কোনো চন্দ্র থাকে সে তুমি। সে চন্দ্রের চেয়েও সুন্দর চন্দ্রাবতী। আমার ফুলের বাগানে তুমি ছাড়া কোনো ফুল নেই, আমার আকাশে তুমি ছাড়া কোনো তাঁরা নেই। আমার হৃদয় নদে যে নৌকা বাঁধা আছে সেখানে তুমিই একমাত্র যাত্রী। তুমি না এলে সে নৌকা সারাজীবন ঘাটেই বাঁধা থাকবে। আমার কোনো পিছুটান নেই। শুধু তোমার অপেক্ষায় বসে আছি

হে প্রিয়ে

এসো মোর ভাঙা ঘরে এসো এসো

আমার প্রেম দরিয়ায় এসে ভেসো

আমার শুষ্ক হৃদয়ে এনে দাও বরষা

তোমার প্রেমই যেন পাই ভরসা।

 

চন্দ্রাবতী জয়চন্দ্রের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। আকাশের লালিমার লাল, চন্দ্রের চন্দ্রিমার চন্দন, গোলাবের গোলাবি, সবুজ ঘাসের সবুজতা, রঙধনুর সপ্ত রঙ, জোনাকির আলোক মেখে নিজেকে সাজিয়েছে সে অপরূপ সাজে। কোনো এক শুভ দিনে শুভ লগ্নে বিয়ের দিনক্ষণ হয় ঠিক। জয়চন্দ্র কথা দেয় তার সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে বৈদিক ধর্মমতে সমাজের নিয়ম কানুন মেনে সে ঘরে তুলবে চন্দ্রাবতীকে। কিন্তু কখন সুরের তাল কেটে গেল, কখন প্রবল বৃষ্টি মাঝে ওঠল বেরসিক রোদ, কখন অপরূপ চাঁদের আলো ঢেকে গেল কালো মেঘে তা অজানাই রয়ে গেল। চন্দ্রাবতী বিঁয়ের সাজে বসে আছে। বাড়ি ভর্তি আমন্ত্রিত অতিথি। কখন আসবে বর কখন আসবে বর এই তব উৎকন্ঠা। কখন এসে চন্দ্রাবতীকে বলবে

আমি এসেছি প্রিয়ে

তোমার অপেক্ষার হলো শেষ

এবার চল তবে আমার ঘরে

আমার শুন্য ঘর দাও পূর্ণ করে।

 

কিন্তু হায় জয়চন্দ্র আসে না। অপেক্ষার প্রহর আরে কাটে না। সময় বইছে টিক টিক। প্রতিটি ক্ষণ এত ভারী। চন্দ্রাবতী যেন আর বইতে পারে না। বাবা বারে বারে বাহির পানে ধায়। কই বর এলো? না বরের দেখা নেই। লগ্ন যে বয়ে যায়। একটি বিষণ্ণ কবুতর চন্দ্রের ঘরের কার্ণিশে বসে আছে মন খারাপ করা চোখে। তবে কি জয়চন্দ্র আসবে না? তবে কি তার মেয়ে হবে লগ্নভ্রষ্টা! হঠাৎ দূরে কাউকে দেখা যায়। কে আসে, কে আসে? সে কি এনেছে জয়চন্দ্রের কোন খবর? বাড়ির সকলের মনে পুলক জাগে। হয়তো এসেছে জয়চন্দ্রের কোন খবর। চন্দ্রাবতীর মুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। পথিক ধীরে ধীরে উঠানে এসে দাঁড়ায়। তার মুখ ভারাক্রান্ত। তার চোখ বড় বিষণ্ণ। তবু তাকে বলতে হবে। সে বলার জন্যই এসেছে। সবাই তাকিয়ে আছে তার মুখপানে। চন্দ্রাবতীর কান তা শোনার অপেক্ষায় আছে রুদ্ধশ্বাসে। সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে সে বলেজয়চন্দ্র আসবে না! সে বরের বেশে বের হয়েছে আজ। তবে চন্দ্রাতীর জন্য নয় সে বিয়ে করতে গেছে আসমানীকে। আসমানী মুসলমানের মেয়ে। আসমানীর রূপে সে হয়েছে পাগল। নিজ ধর্ম ছেড়ে সে মুসলমান হয়ে আসমানীকে করেছে বিয়ে। চন্দ্রাবতীর পৃথিবী যেন নিমেষে দু ভাগ হয়ে গেছে। সে আর সইতে পারে না। প্রচণ্ড কষ্টে আর্তচিৎকারে জ্ঞান হারায় সে।

জয়চন্দ্র সুখ সাগরে ভেসে যায়। ফুলেশ্বরী নদীতে সে আসমানীকে নিয়ে নৌবিহারে ভেসে বেড়ায়। রাত নেই দিন নেই তার নৌকা ভেসে চলে। উত্থাল কামনার জোয়ারে ভেসে ভেসে তার নৌকা ফুলেশ্বরী গভীরে নেচে বেড়ায়। চন্দ্রাবতী দূর হতে তাদের ভেসে যাওয়া দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কোন অপরাধে জয়চন্দ্র তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তার কোন ব্যাখা তার কাছে নেই। সে চাঁদের কাছে যায়, ফুলের কাছে যায়, পাখির কাছে যায়, বনের ঘুঘুকে শুধায়, শুধায় ফুলেশ্বরী নদীর জলকেতোমরা কি কইতে পারো আমার কি দোষ। কোন দোষে আমি পথে পথে ঘুরি? কিবা দোষে আজো আমি কুমারী নারী’

কইতে পারো বনের কোকিল কইতে পারো ভ্রমর

কিবা দোষে প্রেম বিরহে আমি জ্বলব জীবন ভর

কিবা দোষে এ অভাগীর কলঙ্কের দাগ লাগে

কিবা দোষে আমায় ছেড়ে সে আসামানীর ঘরে

ভালো বাসলাম যারে আমি মন প্রাণ দিয়া

কোন বা দোষে আমায় ছেড়ে সে অন্যরে করে বিয়া?

 

চন্দ্রাবতীর এ কথার জবাব কেউ দেয় না। না ফুল, না পাখি, না ফুলেশ্বরী নদী। তবে তাই হোক। এ নারী জনম আর কোন পুরুষের না হোক। কোন পুরুষের ছোঁয়া এ নারী দেহে না লাগুক। আর কোন ছলনার প্রেমে চন্দ্রাবতী না পড়ুক। ভগবানের স্মরণে কেটে যাক বাকিটা জীবন।

হে ভগবান

পার করো আমারে

আমার সময় যাক কেটে যাক তোমার স্মরণে

তোমার প্রেমেই যেন ডুবে থাকি জীবনে মরণে।

 

চন্দ্রাবতী নীরব ধ্যানে নিবিষ্ট চিত্তে পুজা-অর্চনায় ব্যস্ত থাকে। জাগতিক জীবনের হিসাব নিকাশ থেকে গুটিয়ে প্রভু প্রেমে মগ্ন হয়ে হৃদয়ে স্থিরতা আনে। কখন উঠেছে চাঁদ, কখন ডুবছে সূর্য, কখন জোয়ারের পর ভাটা নেমেছে ফুলেশ্বরী নদীতে সে নিয়ে তার কোনো কাজ নেই। তার কাজ শুধু প্রভুর স্মরণ। তার মনে কাব্য জাগে। সে রচনা করে পালা। দস্যু কানারামের পালা।

জালিয়া হাওরের কাছে বাকুলিয়া গ্রামে খেলারাম ও যশোদার বাস ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোনো সন্তান না থাকায় তারা সমাজে অনেক অপমানের শিকার হন এবং নিজেদের জীবনে আক্ষেপ করেন। পরে যশোদার গর্ভে সন্তান আসে এবং এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এই পুত্রের নাম রাখা হয় কেনারাম। কেনারাম বড় হয়ে দস্যুতে পরিণত হয়। তার দস্যুতার কারণে পিতা-মাতা আবার দুঃখ-কষ্টের শিকার হন।

চন্দ্রাবতী কাব্য প্রতিভার স্ফূরণ দেখা যায় মলুয়া পালাতে

মলুয়ার বাবা হীরাধর এবং তার বিত্তবান পরিবারে মলুয়ার জন্ম হয়। পরবর্তীকালে, মলুয়া চাঁদ বিনোদ নামে এক যুবককে ভালোবাসে এবং তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে হঠাৎ করে কাজির ক্ষমতা ও দাপট এসে পড়ে। কাজির ক্ষমতা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে মলুয়া ও চাঁদ বিনোদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মলুয়া তার অটল প্রেম, শক্তি ও আত্মপ্রত্যয় দিয়ে কাজির ক্ষমতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। সে নিজের এবং চাঁদ বিনোদের সম্মান রক্ষা করার জন্য সংগ্রাম করে এবং কোনোভাবেই হার মেনে নেয় না। পালার শেষে, মলুয়ার জয় হয় এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ও ক্ষমতাশালী কাজীর অপশাসনের বিরুদ্ধে এক অসাম্প্রদায়িক মানবিক প্রেমের বিজয় ঘটে। এই গাথাটি মলুয়ার প্রেম ও আত্মমর্যাদার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরে।

চন্দ্রাবতী একসময় রামায়ণ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। যদিও রচনাটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।

জয়চন্দ্র এক সময় বুঝতে পারে আসমানীর প্রতি প্রেম ছিলো তার ক্ষণিকের মোহ। সে আসলে ভালোবাসে চন্দ্রাবতীকে। দিন রাত চন্দ্রাবতীর কথা ভাবে। তার মনে অনুতাপ জাগে। চন্দ্রাবতীর প্রেম তাকে কাতর করে তোলে

ওগো চন্দ্র তোমার কথা ভাবি মনে মনে

তোমায় ব্যথা দিয়া আমি কাঁদি যে গোপনে

কি করে বুঝাইবো আমি আমার অনুতাপ

তোমারে ত্যাগ করিয়া করছি ভীষণ পাপ।

 

জয়চন্দ্র পাগলপাড়া হয়ে চন্দ্রাবতীর দরজায় কড়া নাড়ে। চন্দ্র সে ডাকে সাড়া দেয় না। তার কোমল মন আজ কঠিন। সে এখন প্রেমের ঊর্ধ্বে। যে ব্যথা সে কাটিয়ে উঠেছে সে ব্যথায় আর নতুন করে পড়তে চায় না। জয়চন্দ্রের জন্য তার দরজা চিরতরে বন্ধ। সে তার কেউ না। জয়চন্দ্র হয়তো এক দুঃস্বপ্ন। সে স্বপ্ন সে ভুলে যেতে চায়। জয়চন্দ্রের সব চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সে ফিরে খালি হাতে।

চন্দ্রাবতী এক সন্ধ্যা বেলায় সন্ধ্যা মালতি ফুল নিয়ে নদীর ধারে যায়। ফুলেশ্বরী নদী তীরে নীরব ধ্যানে ক্ষাণিক দাঁড়ায়। কিন্তু একি! নদীর তীরে ভাসছে এ কার নিথর দেহ। চাঁদের মতো সুন্দর তার দেহ। সূর্যের মতো উজ্জ্বল তার মুখশ্রী। হায়! এত জয়চন্দ্র! চন্দ্রাবতীকে না পেয়ে সে আত্মাহুতি দিয়েছে ফুলেশ্বরীর জলে!

কিবা রূপ দেখে চন্দ্র এমনো সুন্দর

নদীর তীরে তারি দেহ করিছে নোঙর

প্রেমানলে পুড়ে পুড়ে গেছে জলে ভাসি

চন্দ্রাবতী কেঁদে কয় আমি সর্বনাশী

না শুনে তারি কথা দিলাম ফিরায়ে

সে শেষে ডুইবা মরল ফুলেশ্বরীর জলে

বৃথাই আমার পূজা অর্চন বৃথাই সাধনা

আমিও মরব ডুইবা তোমায় দিলাম কথা!

চন্দ্রাবতী আর সইতে পারে না। জয়চন্দ্রকে দেখে তার সব শপথ ভেঙে যায়। সে লাফিয়ে পড়ে জলেশ্বরীর অতল জলে!

::::::::::::::::::::::::::::::::::

অগ্নি ঝরে বনে

সালমা বেগ

 

ভোরের বাতাস বলছে আমায় দেখো দুয়ার খুলে

আকাশ-বাতাস গাছে গাছে বসন্তফুল দোলে;

গহন বনে একা একা চলে যেতে চাই

খেলার সাথী ডেকে বলে বসন্ত বন যাই।

 

নির্জনতা ডেকে চলে প্রত্যুষ-রাত্রি ভোর

ভ্রমর আমায় ছুঁয়ে দিয়ে খোলে হৃদয় দোর,

পলাশ-শিমুল পড়ে আছে গোপাট লালে লাল

দ্বিপ্রহরে বিজন ছায়ায় দাঁড়াই ক্ষণকাল

শিহরণে বসন্ত ফুল ললাট ছুঁয়ে যায়

বনে বনে অশোক-আগুন যৌবন ফিরে পায়।

গাছে গাছে রঙিন ফুলে অগ্নি ঝরায় বনে

বসন্ত ফুল খোঁপায় গুঁজে আনন্দ পাই মনে

নবীন পাতা জেগে উঠে স্বর্গ সুখে হাসে

অসীম আকাশ হাত বাড়িয়ে আমায় ডাকে কাছে।

 

ফাল্গুনের কবিতা

রেখা আক্তার

 

হয়তো তুমি ভুলেছো সেই পথ

সুর মোহনার কৃষ্ণচূড়ার লাল।

এই ফাগুনের লাল পলাশের ডালে

সবটা জুড়ে টুকরো অতীতকাল।

 

আর কখনো ফিরবে না সেই দিন

স্মৃতির রেখায় খুব চেনা শীত ঘুম

স্বপ্ন চোখে বিরহ ঝরঝর!

রাঙাবে না যত্নে এ মৌশুম।

 

হয়তো আবার দখিন দিকের দ্বার

খুলে দিলেই পাবো তোমার ঘ্রাণ

হয়তো আবার ছুটতে দেখলে পিছু

টুটি চেপে ধরবে পিছুটান।

 

সুপ্ত কুহক ডেকো না অবেলায়

নির্ঘুম চোখে বাড়ছে ক্রমে রাত

সেই তো আবার ফিরতে হবে একাই

কি বুঝে তুই বাড়িয়েছিলিস হাত?

 

দয়া বা দোয়া

ফকির শাহিন শাহ্ 

 

আকাশ তার ওপরকে দেখতে পারে না,

মাটি দেখতে পারে না নিচকে।

 

কি অদ্ভুত এই দেখাদেখি,

মানুষ দেখে না মানুষকে।

 

মধ্যস্থলের বাস,

বাষ্প, বায়ুকে

মানুষের মানুষ দেখার লোচনই নেই।

 

মানুষের বুকে বসন্ত নেই,

শরৎ নেই, হেমন্ত নেই।

ভালোবাসার ধৈর্য নেই,

প্রিয়তমার হাত ধরে পালানোর সাহস নেই।

 

মানুষকে না দেখে প্রেম হয় না,

দয়া বা দোয়াও হয় না।

 

অনুভূতি

আসাদুল্লাহ কাওসার

 

আমি তোমাকে ভালোবাসি

বললেই কি অনুভূতি প্রকাশ হয়?

আচ্ছা, অনুভূতি কি প্রকাশ করা যায়?

 

দাঁতের ডাক্তার যখন হাতুড়ি-বাটাল

ইনজেকশন নিয়ে এগিয়ে আসেন,

তখন বেডে শুয়ে থাকা বেচারা

রোগীর অনুভূতি কি প্রকাশ করা যায়?

 

রাত জেগে পড়াশোনা করে

পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়ার পর

পরীক্ষার্থী কতটা আনন্দিত হয়,

সেই অনুভূতি কি প্রকাশ করা যায়?

 

গ্রীষ্মের দাবদহের কাঠফাটা রোদে

বৃষ্টির আশায় চাতক পাখির ন্যায়

আকাশপানে তাকিয়ে থাকা

ফসলের অনুভূতি কি প্রকাশ করা যায়?

 

ছয় মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর

হেমন্তের বিকেলে কৃষক যখন তার

সোনালি ধান দেখে মুগ্ধ হয়,

সেই অনুভূতি কি প্রকাশ করা যায়?

 

প্রচণ্ড শীতে লেপের উষ্ণতায়

মোবাইলের আলো জ্বেলে

প্রিয় লেখকের বই পড়ার

অনুভূতি কি প্রকাশ করা যায়?

 

এলোমেলো ছন্দে লেখা

জীবনের প্রথম কবিতাটা যখন

পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল,

সেই অনুভূতি কি প্রকাশ করা যায়?

 

অতঃপর অনুভূতির জন্ম হয়,

কোনো দিন মৃত্যু হয় না।

অনুভূতি অনুভব করা যায়,

কিন্তু প্রকাশ করা যায় না।

 

নীরব ভালোবাসা 

ইসরাত মিম

 

ভালোবাসা দিবসে আজও তোমার কথা লিখি,

কথার ভেতর জমে থাকে অচেনা শূন্যতা।

সবাই যখন হাসে, আমি তখন ভাবি

কিছু হাসি কেন চোখে এসে ভেঙে যায়।

তুমি ছিলে আমার সবচেয়ে আপন...

হঠাৎ করেই সেটার ছুটি হয়ে গেল।

কোনো ঝগড়া হয়নি, তবু দূরত্ব এলো,

কিছু বিদায় শব্দ ছাড়াই হয়।

ভালোবাসা মানে শুধু পাওয়া হলে,

তবে অপেক্ষা শব্দটা জন্মাতো না।

আমি আজও তোমার খোঁজ রাখি নীরবে,

তুমি জানো না, জানার দরকারও নেই।

১৪ ফেব্রুয়ারি এলেই বুকটা ভারী হয়,

কারণ কিছু হাত ধরা অপূর্ণ থেকে যায়।

আমি অভিযোগ করিনি কখনো,

শুধু নীরবতার ভেতর ভাঙতে শিখেছি।

যদি আবার দেখা হয় কোনোদিন,

চেনা চোখে অচেনা হয়ে তাকাবো।

ভালোবাসা হারাইনি আমি,

শুধু কষ্টের ভেতর রেখে দিতে শিখেছি।

 

বসন্তের আগুনে

ইব্রাহিম খলিল

 

একলা আকাশ খোপায় গুজে

রৌদ্র দুপুর আগুনে,

চললে কোথায় অষ্টাদশী

আজকে হঠাৎ ফাগুনে?

 

পলাশ শিমুল ডালে ডালে

লাগছে যেন ফুলের হাট,

বসন্ত তাই বাও বাতাসে

এত্তো ফুলের দোকানপাট।

 

ষোড়শী আর অষ্টাদশীর

খোপায় খোপায় পলাশ ফুল,

ইচ্ছে করেই আজ বসন্তে

হোক না কিছু মনের ভুল।

 

আয় ছুটে আয় অষ্টাদশী

রৌদ্র দুপুর ফাগুনে,

ইচ্ছে মতো পুড়বো দুজন

আজ বসন্তের আগুনে।

 

ফাগুনের গায় আগুন

এম আর মিজান


আমার কথা ছিল ফাল্গুনে ভালোবাসার

তোমাকে ছোঁয়ার কথা ছিল অল্প শীতের বিদায়ী সময়ে 

যখন ফাল্গুন ছুঁয়ে যাবে কৃষ্ণচূড়া, শিমুল, পলাশের বন

বইমেলার আমেজ, রমনা, দোয়েলচত্বর আর

নতুন করে নির্মাণ করা রঙ্গিন ফুটপাত ঘিরে প্রেম থাকবে।

অথচ আমাদের প্রেম হলো না, 

দেখা হলো রক্তে লাল শহর, রক্তে ভেজা শার্ট, রিক্সায় লেগে থাকা জমাট রক্ত!

দেখা হলো পত্রিকায় পাতাজুড়ে ধর্ষণ, খুন, ছিনতাই, লুট...

ফুটপাত হয়ে গেল বীভৎস সুন্দর যেখান থেকে বীভৎসতা খুঁজে পায় নরক,

 

যেখানে পথচারী হাটে, পাশে খুন হয় নারকীয় কায়দায়,

যেখানে প্রেমিক তার প্রেমিকার হাত ধরে হাটে,

বাবা তার মেয়ে নিয়ে ফেরে, ভাই তার বোনের সুরক্ষায়

পাশাপাশি থাকে, পাশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ দেখেও চোখ সরে যায় সামনে! 

আমার প্রেম হবার কথা থাকে প্রেম হয় না

অথচ যা হবার কথা নয় তার সব হয়,

ভালোবাসার পৃথিবীতে মৃত্যু, ধর্ষণ

ফাগুনের গায় লেগে থাকে আগুন আর আগুন...


তবুও আজ বসন্ত

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির


যদিও এটা কবিতা তবুও তোমাকে

মেসেজ করতে ইচ্ছে করলো!

কারণ আজ বসন্ত! চারদিকে হলুদের ছড়াছড়ি!

কেনো ইচ্ছেটা জাগলো, কেনো এই অদ্ভুত অনুভূতিটা

আমাকে আধো আলো আধো জাগরণ থেকে

কেনো উঠে বসেছি জানি না!

চারিদিকে নিঃশব্দ নীরবতা, পৃথিবীর কোনো প্রাণীর সাড়া শব্দ নেই,

কোলাহল মুখর শত আয়োজনে ভরা।

কেমন ক্লান্ত পথিকের মতো পৃথিবী হেলিয়ে দিয়েছে নিজেকে।

তোমার কন্ঠধ্বনি আমাকে এমনই এক

গভীর কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে জাগিয়ে তুলেছে!

কী এক অলৌকিক টানে!

রাত পোহালে কিশোর তরুণের মুখে উচ্চারিত হবে, আজ বসন্ত।

হলুদের ঝলমলে ঝলকানিতে মুখরিত হবে পৃথিবী। 


আমি তোমাকে শুনতে চাই, কন্ঠেও জাদু থাকে বুঝতে পারিনি

আমি জানতাম না, বিশ্বাস করো।

বসন্ত সৌন্দর্য যেমন জীবনে জোয়ার জাগিয়ে তোলে,

তোমার কন্ঠও আমায় বসন্তে বসন্তে বসন্তের স্পর্শ দিয়ে যায়!


নবীন বসন্তের শত ভীড়ের মাঝে কেউ শূণ্যতায় ভোগতে পারে

এ আমার জানা ছিলো না,

জানা ছিলো না হাজারো নম্বর থাকতে

একটাও ডায়াল করার নম্বর থাকে না!


পাশের ফ্লাটে বাস করলেই কেউ কেউ আপন হয় না,

পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বহুদূর অব্দি চলে গেলেও

কোনো কথা হয় না, ডাকা হয় না, বলা হয় না মনের কথা,

কিংবা একসাথে বসে গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে

হয় না কোনো জীবনের গল্প,

অল্প অল্প করে জমে থাকা ছেড়া কথা!

তবুও আজ বসন্ত!

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post