কামরুল হাসান এর সার্ক সাহিত্য
পুরস্কার ২০২৫ অর্জন
কবি ও ভ্রমণকাহিনি লেখক কামরুল হাসান এর ‘সার্ক সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ অর্জন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দিল্লি থেকে গত ০৯ নভেম্বর ৬৬ তম সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
কামরুল হাসান ১৯৬১ সালের ২২ ডিসেম্বর শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানায় জন্মগ্রহণ করেন। কামরুল হাসানের শৈশব কেটেছে মামা বাড়িতে। বর্তমানে বসবাস করছেন ঢাকায়। তিনি আশির দশকের কবি। কবিতা লিখছেন ৪৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪ টি। প্রকাশের অপেক্ষায় প্রায় দশটি পাণ্ডুলিপি। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সহস্র কোকিলের গ্রীবা’ প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে। ভ্রমণপিপাসু এ কবি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষকরে ২০১৫ থেকে নিয়মিত ভ্রমণকাহিনি লিখছেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ৬টি ভ্রমণকাহিনি। এর মধ্যে মহাদেশের মতো এক দেশ, বিলেতের দিনলিপি, আমির তিমুরের দেশে, সিমলা মানালির পথে উল্লেখযোগ্য। প্রকাশের অপেক্ষায় আরো পাঁচটি দেশ ভ্রমণের গল্প। তিনি কবিতা ও ভ্রমণকাহিনির পাশাপাশি ছোটোগল্প লিখেন কখনো সখনো। প্রকাশিত একমাত্র গল্পগ্রন্থ ‘মধ্যবিত্ত বারান্দা ও অন্যান্য গল্প’ ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গল্পগ্রন্থটিতে তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন কাহিনী তুলে ধরেছেন। আরেকটি গল্পগ্রন্থ যন্ত্রস্থ—প্রকাশের অপেক্ষায়। তিনি প্রিয় নাতনিকে নিয়ে সময় পেলেই ছড়া লিখেন। একমাত্র ছড়ার বই ‘নাতির জন্য ছড়া’। মাঝে মাঝে লিখেন কবিতাবিষয়ক প্রবন্ধ। ‘কবিতার মায়াহরিণ কবির মঙ্গলযাত্রা’ তাঁর একমাত্র প্রবন্ধের বই। তবে অন্তত দুটো প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপি ইতিমধ্যে প্রস্তুত করেছেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৪ এই চারবছরে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় নিবন্ধ লিখেছেন ৪৭টি, যা নিয়ে তাঁর নিবন্ধের বই বেরিয়েছে ‘প্রহরের প্রস্তাবনা’ নামে। রয়েছে মুক্তগদ্যের দুটি বই—‘এই নগরীর যত সাহিত্যবাসর’ ও ‘ব্রেকফাস্ট আড্ডা’। অনুবাদেও তিনি পিছিয়ে নন। কবিতা, ভ্রমণকাহিনি, প্রবন্ধ প্রভৃতির পাশাপাশি বিদেশি সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেন। পাঁচ তরুণ কবির নির্বাচিত কবিতার বই অনুবাদ করেছেন। সম্পাদনা করেছেন (যৌথভাবে) পোস্টমডার্ন কবিতার একটি সংকলন।
এসব লেখালেখির সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেলেন দিল্লি থেকে—এবারের ৬৬ তম ‘সার্ক সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ অর্জনের মাধ্যমে। ইতপূর্বে তিনি বেশ কয়েকবার দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য উৎসবে যোগ দিতে দিল্লি, আগ্রা ও লক্ষ্মৌ গিয়েছেন। যোগ দিয়েছেন হায়দ্রাবাদ ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট্রি ফেস্টিভাল, ২০১৭ ও কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব, ২০১৯-এ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে।
ছাত্রজীবনে মেধাবী কামরুল ইসলাম ভারতের বিখ্যাত আই আইটি খড়গপুর থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি একজন বিমান প্রকৌশলী। পরবর্তী পড়াশোনা ব্যবসায় প্রশাসনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। এছাড়া গ্রেট ব্রিটেনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। পেশাগত জীবনে বহুবার চাকরি বদল করেছেন। শেষে করপোরেট জগৎ থেকে যোগ দেন শিক্ষকতায়। গত ১৭ বছর ধরে পড়াচ্ছেন ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে। স্ত্রী লুবনা হাসান ও চার সন্তান নিয়ে তার কলকাকলীময় সংসার! ‘সার্ক সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রাপ্তিকে তিনি দেখছেন তাঁর কাছের মানুষদের জন্য আনন্দের সংবাদ হিসেবে!
