ভাষা ও অমর একুশ সংখ্যা

ভাষা ও অমর একুশ সংখ্যা

ভাষা ও অমর একুশ সংখ্যা

অতুল প্রসাদ সেন
বাংলা ভাষা


মোদের গরব, মোদের আশা,
  আ-মরি বাংলা ভাষা!
     তোমার কোলে,

     তোমার বোলে,
 কতই শান্তি ভালোবাসা!

   কি যাদু বাংলা গানে!
গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,

  গেয়ে গান নাচে বাউল,
গান গেয়ে ধান কাটে চাষা!

 

বিদ্যাপতি চণ্ডী গোবিন
  হেম মধু বঙ্কিম নবীন-
   ঐ ফুলেরই মধুর রসে
বাঁধলো সুখে মধুর বাসা!

বাজিয়ে রবি তোমার বীণে,
আনলো মালা জগৎ জিনে!
তোমার চরণ-তীর্থে আজি,
জগৎ করে যাওয়া-আসা!

ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা,
 আনল দেশে ভক্তি-ধারা,
  আছে কই এমন ভাষা,
এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা?

ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে
ডাকনু মায়ে ‘মা, মা’ বোলে;
  ঐ ভাষাতেই বলবো হরি
   সাঙ্গ হলে কাঁদা হাসা।

 

খান নজরুল ইসলাম

বোধ

 

যখন আমি বাংলা বলি, বুক ভরে যায় গর্বে

বাংলা আমার নেচে ওঠে, নীরব হৃদয় মর্মে।

যখন আমি বাংলা বলি, ঋণ হয়ে যায় শোধ

মা’র শেখানো বুলি বলেই, হয়তো এমন বোধ!

ভাষা আমার আগে শেখা, পরে বাংলাদেশ

ভাষার সাথে এমন মিলে, আছে কোনো দেশ?

তৃপ্তি ভরা হাসি কান্না, অবারিত সুখ মনে

পূর্ণ কি হয় অগাধ অর্থে? কাঁড়িকাড়ি ধনে?

রক্ত দিয়ে কেনা ভাষা, নয় করুণায় কারো

শ্রদ্ধাভরে বাঁচিয়ে রেখো, যতটা তাই পারো!

অনেক রাষ্ট্রই রক্তে কেনা, ভাষা যে আর নাই

গভীর অনুভবে যে তাই, অগাধ তৃপ্তি পাই!!

ভাষার প্রতি সকল দেশে, নিবিড় ভালোবাসা

কেউ করেনা আপোষ-রফা নিয়ে মাতৃভাষা!

 

ইব্রাহিম খলিল

ফেব্রুয়ারি

 

বুকের ভেতর রক্ত কণা , টগবগিয়ে ফুটছিল,

যখন আমার মাতৃভূমি, বর্গীরা সব লুটছিল।

শাসন শোষণ মেনে নিয়ে, দিনটা মোদের কাটছিল,

নিজের দেশে আমরা ভৃত্য, ওরা সাহেব লাট ছিল।

 

অত্যাচারের মাত্রা সীমা, আস্তে ধীরে বাড়ছিল,

গরিব-দুঃখীর রক্ত চুষে, ভাত কাপড়ে মারছিল।

দিনে দিনে ক্রমান্বয়ে, লোভটা ওদের বেড়ে যায়,

হঠাৎ করেই ছোবল মারে, মাতৃভূমির ভাষার গায়।

 

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ, গর্জে উঠি আমরা তাই,

বাংলা আমার মাতৃভূমি, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।

তীব্র প্রতিবাদের ঝড়ে, ধরলো কাঁপন রাজপথে,

সান্ধ্য কানুন ভঙ্গ করে, সালাম রফিক বরকতে।

 

ভাষার লড়াই দেশটা জুড়ে, উঠলো জমে খুব করে

আন্দোলনে ছাত্র সমাজ, কেউ থাকেনি চুপ করে।

গর্জে ওঠা সেই প্রতিবাদ, আগ্নেয়গিরির জ্বালা মুখ

মায়ের ভাষার জন্য তারা, বুলেট বোমায় পাতলো বুক

 

প্রতিবাদী সেই মিছিলে, ছুড়লো ওরা গুলির বান,

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ, শহীদ হলো তাজা প্রাণ।

 

রফিক ওসমান

একুশের চেতনা 

 

একুশ মানেই রোপণ করা 

স্বাধীনতার চারা

একুশ মানেই মায়ের ভাষায় 

বাংলা বলতে পারা । 

 

রফিক-শফিক-সালাম-বরকত 

দিলো বলিদান 

পেরেছি কি আমরা আজও

দিতে প্রতিদান? 

 

একুশ মানেই প্রভাতফেরি 

ভাই হারানো গান

থাকবে একুশ হৃদয় মাঝে

হয়ে চির অম্লান । 

 

একুশ মানেই রক্তে ভেজা 

ভাষা আন্দোলন

একুশ এলেই কৃষ্ণচূড়া

সাজিয়ে তোলে বন।।

 

সুলতান মাহমুদ

খোকার বাড়ি ফেরা

 

ছেলেটা শুধু হাসছে। হাসলে ওকে দারুন লাগে। তাই বলে এত হাসি। এত হাসিস নাতোকপট রাগ দেখায় হাসিনা বানু। আয় খেতে  আয়। কত দিন পর বাড়ি এলি, কই দুটো ভালো মন্দ খাবি, তা নাশুধু হাসি আর হাসি। মা কি রেধছ? রেধেছিরে রেধেছি, তোর সখের মুড়িঘন্ট, রুই মাছ, কলই শাখ, খেসারির ডাল। দাও মা দাও, খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। ছেলেকে খেতে বসিয়ে রুই মাছের বড় মাথাটা এগিয়ে দেয় হাসিনা বানু। খুব মজা করে খাচ্ছে ছেলেটা। হাসিনা বানু তাকিয়ে থাকে কিন্তু হঠাৎ সবকিছু কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে। হাসিনা বানু তার সামনে বসে থাকা ছেলেকে আর দেখতে পায়না। খোকা..খোকা... হাসিনা বানু প্রচণ্ড জোরে ডাকতে থাকে কিন্তু কোন সাড়া-শব্দ নেই। এক সময় হাসিনা বানুর গলা থেকে আর কোন শব্দ বের হয়না। মনে হচ্ছে কেউ একজন তার গলাটাকে জাপটে ধরে আছে। আস্-ছলাতু খইরুম মিনান্ নাউম, আস্-ছলাতু....। আযানের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় হাসিনা বানুর। প্রচণ্ড শীতেও সে ঘামছে। সে বুঝতে পারে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল। অনেক দিন ছেলেকে দেখেনা হাসিনা বানু। কাল অনেক রাত পর্যন্ত ছেলের চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিল হয়ত সেই জন্যই ছেলে স্বপ্নে এসে ধরা দিয়েছে। হাসিনা বানু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ে নেয়।

 

এ বছর তীব্র শীত পড়েছে। সূর্যটা প্রায় সারাদিনই কুয়াশার আড়ালে ঢাকা থাকে। প্রচণ্ড শীতে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করাই দায় কিন্তু হাসিনা বানু কাজ করছে। তার ছেলে রফিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ছেলেটা কতদিন বাড়ি আসেনা।  একটা চিঠিও দেয়না। তবে প্রতিবছর শীত এলেই সে বাড়ি আসে। এখন যেহেতু শীত তাই যেকোন দিন বাড়ি আসতে পারে। গত কয়েক মাস আগে রফিক বাড়ি এসেছিল। কি এক ব্যস্ততায় সে বেশি দিন বাড়ি থাকতে পারেনি। প্রায় সারাক্ষণই বলত মা ওরা আমাদের মুখের ভাষাকে কেড়ে নিতে চায়, কেড়ে নিতে চায় আমাদের বর্ণমালা, মুছে ফেলতে চায় আমাদের জাতিসত্ত্বা, তোমার কোলে শুয়ে বাংলা ভাষায় ওরা গল্প শুনতে দিতে চায়না, তুমিই বল মা, তা কি আমরা মেনে নিতে পারি? হাসিনা বানু হেসেছিল। পাগল ছেলে, কারো মুখের ভাষা কি কেউ কেড়ে নিতে পারে। তারপর ছেলেটা সেই যে গেল, আর এলোনা। হাসিনা বানু ছেলের জন্য নানা রকম পিঠা বানায়। এ বছর খেজুর গাছে প্রচুর রস হয়েছে। বেশির ভাগ পিঠাই খেজুরের রস দিয়ে বানানো।  দিন নেই রাত নেই সে পিঠা বানাচ্ছে। নানান রকমের পিঠা খাইয়ে এবার ছেলেকে চমকে দিতে চায় সে।

 

দেখতে দেখতে অনেক দিন চলে গেল। শীত কমে এসেছে। সূর্যের তেজটাও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। চারদিকে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে। কিন্তু হাসিনা বানুর মনে সে আমেজের ছোঁয়া লাগেনি। তার খোকা আজও বাড়ি ফিরেনি। কতদিন হয় পিঠাগুলো শিকেয় তোলা। পিঠাগুলো আর কতদিন ভালো থাকবে কে জানে। তবে হাসিনা বানুর কাজ কমেনি। ছেলেতো যেকোন দিন  এসে পড়তে পারে। ও ঢাকায় থাকে, কি খায় না খায়, তার কোন ঠিক আছে? বাড়িতে সে নানান রকমের সব্জি চাষ করছে। লাল শাক, পুঁই শাক, সীম, লাউ, কুমড়া, ঢেঁড়শ আরো কত কি! বাড়ির পুকুরটিতে বর্ষা আসার সাথে সাথে মাচা দিয়ে দিয়েছিল। পুকুরে এখন অনেক মাছ। সারাদিন কৈ, শিং, মাগুর, শৈল মাছের লাফালাফি। তা দেখে আনন্দে নেচে উঠে হাসিনা বানুর মন। বাড়িতে আছে কিছু হাঁস-মুরগী সব মিলিয়ে ছেলের জন্য বিরাট আয়োজন করে রেখেছে সে। কিন্তু  যার  জন্য এত আয়োজন সেতো আজও  এলোনা। বিকেলে হাসিনা বানু করিম মাষ্টারের বাড়ি যাবে। তাকে দিয়ে একটি চিঠি  লিখে কালই পোষ্ট করে দিবে সে।

 

সকাল থেকেই সূর্যটা টকটকে লাল আকার ধারন করেছে। মনে হচ্ছে রক্ত দিয়ে সূর্যটা গোসল করেছে আজ। শিমুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া গাছে অনেক ফুল ফুটেছে। গাছ গুলোর মাথার উপর দিয়ে যেন রক্তের নদী বয়ে গেছে। এই ফুলগুলো যেন সূর্যের সাথে প্রতিযোগীতা করছে। শিমুল গাছের মগডালে কোকিলেরা বাসা বেধেঁছে। তারা একতানে গান গাইছে। বাড়ির আঙিনায় বসে আছে একটা হলুদ পাখি। সেও সাথে সাথে ঠোট মিলাচ্ছে। এ পাখিটিকে বলা হয় কুটুম পাখি। সে অনবরত গেয়ে চলছে। একটা কুটুম...একটা কুটুম...। এই ভর দুপুরে তার গান যেন এক নতুন আমেজের সুষ্টি করেছে। মনে হয় বাড়িতে আজ কোন নতুন মেহমান আসবে। মনে মনে সে কথাই ভাবে হাসিনা বানু। তবে কি তার ছেলে আসবে? তাই হয়ত, নইলে পাখি, ফুল আর সূর্যটা কেন আজ নতুন সাজে সেজেছে। টিং টিং শব্দ হয় হাসিনা বানুর উঠানে। পোষ্ট মাষ্টার এসেছে। তার চোখে মুখে বিষন্ন একটা ভাব। আপনার ছেলের চিঠি। হাসিনা বানু চিঠিটা হাতে নেয়। পোষ্ট মাষ্টার আর দেরি করেনা, চোখ মুছতে মুছতে চলে যায় সে। হাসিনা বানু অবাক হয়। খাম থেকে চিঠিটা খোলে হাসিনা বানু। চিঠিটা ছেড়া আর রক্তে ভেজা। হাসিনা বানু সূর্য, শিমুল গাছ আর চিঠিটার দিকে তাকায় কিন্তু কিছুই বুঝতে পারেনা সে। বিকেলে করিম মাষ্টার চিঠিটা পড়ে শোনায়। অবশ্য আগে সে নিজে পুরো চিঠিটা পড়ে নেয় তার পর হাসিনা বানুকে শোনায়। চিঠিটা পড়ার সময় করিম মাষ্টারের চোখে পানি জমে উঠে। বিষয়টা হাসিনা বানুর নজর এড়ায়না। কোন খারাপ খবর নয়তো? ব্যাপারটা জানতে চায় সে। করিম মাষ্টারের চোখে তখন হাসি আর কান্নার একটা মাঝামাঝি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে সে। না, মানে তোমার ছেলে শীঘ্রই বাড়ি ফিরবে। সে কথাই সে চিঠিতে লিখেছে। সত্যি! আনন্দে হাসিনা বানুর বুক ভরে উঠে। বাড়ি ফিরে তাড়াতাড়ি দু রাকাত শোকরানা নামায আদায় করে সে।

 

সময় বয়ে যায় কিন্তু প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয়না। শিমুলের ফুল গুলো মরে গেছে সেই কবে। সব্জি গাছ গুলো বাগানেই শুকিয়ে গেছে। পুকুরের মাছ গুলো বর্ষার পানিতে চলে গেছে। দিন, মাস পেরিয়ে বছর ঘুরে আবার শীত আসে। হাসিনা বানুর চোখে এতদিনে কালি পড়ছে। বড় ক্লান্ত সে। বড় বিষন্ন তার মন। প্রতিদিন তার মনে হয় খোকা আসবে কিন্তু খোকা আসেনা। কিন্তু তাই বলে কি সে বসে থাকবে। হয়ত খোকা খুব তাড়াতাড়িই আসবে। আবার পিঠা বানায় সে। বাড়ির আঙিনা আবার ভরে উঠে সবুজ ফসলে। শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া আবার ফিরে এসেছে। বাড়ির আঙিনায় হলুদ পাখিটাকেও দেখা যায়। কিন্তু....।

                                                                                               

জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি

 

ভাষা শহীদের স্মৃতি, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি,

রঞ্জিত ঐ রাজপথে ছাত্র-জনতার আহাজারি।

রক্তে লেখা ইতিহাস জাগে বুকের গভীরে,

প্রতিবাদের অগ্নিশিখা জ্বলছে আজও নীরবে ধীরে।

যে ভাষাতে কথা বলি, সেই ভাষাতেই লিখি,

যে ভাষাতেই গাই গান, সেই ভাষাতেই আঁকি।

একুশ মানে মায়ের ভাষা, একুশ হৃদয়ের স্বর,

একুশ মানে ভাইয়ের রক্তে লেখা স্বাধীনতার ঘর।

শহীদ মিনার ফুলে ফুলে কচি হাতের তোরার ভিড়ে,

রাজপথে নেমেছে মিছিল তাদের স্মৃতির স্মরণ ঘিরে।

একুশ এলে জাগে মনে অমর অঙ্গীকার,

রক্তে কেনা ভাষার মান রাখবো বারংবার।

 

ইসরাত মিম

রক্তঝরা একুশ

 

রক্তে লেখা দিনটি আজও কথা বলে নীরবে,

ভাষার জন্য জীবন দেওয়া ছেলেগুলো ঘুমায় কবরে।

পথে পথে ঝরেছিল তাজা তরুণ প্রাণ,

মায়ের ভাষা বাঁচাতে তারা হয়েছিল অগ্নিস্নান।

গুলির শব্দ ভেদ করেছিল বুকের ভিতর,

তবুও থামেনি বাংলার দৃঢ় উচ্চারণের সুর।

মায়ের আঁচল ভিজেছিল সন্তানের রক্তে

ধীনতার বীজ বোনা হয়েছিল সেই ক্ষততে।

শহীদ মিনার দাঁড়িয়ে আছে সাক্ষী হয়ে আজও,

নীরবে বলে যায় একুশের ইতিহাস যতটা পারো শোনো।

একুশ মানে মাথা নোয়ানো গর্বের কাছে নয়,

একুশ মানে অন্যায়ের সামনে চিরকাল দৃঢ় ভয়হীন নয়।

যে ভাষায় হাসি-কান্না, প্রেম আর ব্যথা,

সেই ভাষার জন্য জীবন দেওয়া অমর কত কথা।

প্রতিবাদের আগুন জ্বলেছিল বুকের ভেতর,

বাঙালি সেদিন হয়েছিল দুর্বার ঝড়ের মতো প্রবল।

আজ আমরা লিখি স্বাধীন অক্ষরে গান,

ভুলে যাই না যারা দিলো প্রাণের দান।

তাদের রক্তে ভিজে আছে আমাদের বর্ণমালা,

রক্তঝরা একুশ তাই চিরদিনের জাগ্রত জ্বালা।

 

ইব্রাহিম খলিল

ভাষার সুখ

 

বুকটা জুড়ে মুখটা ভরে, মা মা বলে ডাকছো আজ

জানো কী তা মা ডাকাটা, ছিলো কত কঠিন কাজ?

আমার নিজের দেশ হলেও, বসতো ওরাই গদিতে

আমার নিজের স্বাধীনতা, ফেলতো ছুড়ে নদীতে।

 

মানুষ যেমন মাছটা খেয়ে, বিড়ালটাকে কাটা দেয়

পশ্চিমারা ঠিক তেমনই, আমার দেশের সুফল নেয়।

আমরা খাটি দিনে রাতে, পরিশ্রমে ঢালি ঘাম

উৎপাদনের সব জিনিসের, পাই না কোন ন্যয্য দাম।

 

সরকারি সব বড় চেয়ার, ওরাই নিতো দখলে

নিজের দেশে ভৃত্য সেজে, মুখ বুজে রই সকলে।

বাধ্য হয়েই চলতে হতো, ওদের খুশি খেয়ালে,

অত্যাচারের ষ্টিম রোলারে, পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে।

 

এমন করেই ধীর ধীরে, যাচ্ছিল সব গা সয়ে

কেউ তখনও জানতো কী আর, খেলবে ওরা মা লয়ে

ঘুমটা ভেঙ্গে যেই ভাষাতে, মা,মা বলে দিতাম ডাক

সেই ভাষাটা কেড়ে নিতে, কন্ঠে বুলেট করলো তাক।

 

গর্জে ওঠে ছাত্র সমাজ, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই

হাত বাড়ালে ভাষার দিকে, বর্গী তোদের রক্ষা নাই।

রক্ত ফোটে রক্ত ছোটে, বুকটা যেন বারুদ ঘর

সমস্বরে হোক প্রতিবাদ, মায়ের ভাষা রক্ষা কর।

 

সান্ধ্য আইনের পাচিল ভেঙ্গে, মিছিল করে বরকতে

সালাম-রফিক-শফিক-জব্বার প্রতিবাদের হরকতে।

বৃষ্টি মতো গুলি করে, সেই মিছিলের বরাবর

রক্তে হলো পিচ ঢালা পথ, ঠিক যেনো এক সরোবর।

 

এই ভাষাটা আনতে গিয়ে, খালি হলো মায়ের বুক।

তাজা প্রাণের বিনিময়ে, আমরা পেলাম ভাষার সুখ।

 


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post