‘চতুর্ভূজ বাজাচ্ছে—শরীরে... ভাবৎ’ পাঠ প্রতিক্রিয়া

‘চতুর্ভূজ বাজাচ্ছেশরীরে... ভাবৎ’ পাঠ প্রতিক্রিয়া

সন্ন্যাসী আরণ্যক

 

‘চতুর্ভূজ বাজাচ্ছে—শরীরে... ভাবৎ’ পাঠ প্রতিক্রিয়া

যে পাগলের কথা বলতে চাই সে আর কেউ নয় আমাদের আত্মার মানুষ, আমাদের ভাই, আমাদের বন্ধুজন কবি ঋজু রেজওয়ান। কবিতা নিয়ে ঋজু ভাইয়ের পাগলামি তার পরিচিত জনেরা বেশ ভালোভাবেই জানেন। তবে তার পাগলামি অবোধ বালকের নিতান্ত ঝোঁকের মাথায় করে বসা কোনো অনির্ধারিত কিন্ত অনিবার্য কিছু নয়। অনিবার্য তো বটেই, তবে তা সচেতন পাগলের অবাধ সৃষ্টি স্বাধীনতার পরম সুখ উল্লাস বা ধ্যানীর ধ্যানমগ্ন মন্ত্রোচ্চারণ।

 

‘চতুর্ভূজ বাজাচ্ছেশরীরে... ভাবৎ’ সম্ভবত ঋজু ভাইয়ের পঞ্চম কবিতার বই হতে যাচ্ছে। নামকরণে অবাক হইনি, কারণ এমন অবাক তিনি পূর্বেও তিন চারবার করেছেন। ঋজুর বইয়ের নামকরণ অবাক করবে এটাই তো হওয়ার! শুরুতেই একবার সম্পূর্ণ পান্ডুলিপিতে চোখ বুলালাম। এ কাব্যটিকে চার খণ্ডে (ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ) বিভক্ত করেছেন তিনি। প্রত্যেক অংশের দিকে তাকালেই প্রথমেই মনে আসবে সৃষ্টি তত্ত্বের আদি ও অনিবার্য চার উপাদানের নাম। এটা অবাক করার। কবিতায় তিনি এবার কী দেখাবেন!!!

 

একটার পর একটা কবিতা পড়ে মনে হচ্ছে, প্রত্যেক কবিতার শিরোনাম হয়তো ভিন্ন কিন্তু কবিতাগুলো একটার সাথে অন্যটা ঘনিষ্ঠ সূত্রে প্রকাশ্য প্রণয়ে আবদ্ধ। সাড়ে তেরো বিলিয়ন বছর পূর্বের এক মহাবিস্ফোরণ থেকে শুরু করে আজকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যে দুনিয়া। পদার্থ সৃষ্টির পর রসায়ন তারপর প্রাণের সূচনাতার বিকাশ তার পরিণত অবস্থা। দেহ ও আত্মার তুলনামূলক তর্ক। সত্য কী? দেহ নাকি আত্মা; ভর নাকি শক্তি। নাকি সব রূপান্তর মাত্র!

 

ঋজু রেজওয়ান হাজার বছরের চর্চিত দর্শনকে অবলীলায় নিয়ে এলেন কবিতার ভেতর। কিন্তু কোথাও দর্শনের নিম্নচাপে গুমোট পরিস্থিতি তৈরি করছে না। উচ্চচাপে বিস্ফোরণও হচ্ছে না। তার ছন্দ অভিজ্ঞান ও ঐশ্বর্যময় শব্দভাণ্ডার দর্শনের চাপ থেকে কবিতাকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে। প্রথমে ঋজু রেজওয়ানের পাঠকেরা চকম পেতে পারেন! জীববিজ্ঞানের এত টার্ম, দেহ সৃষ্টির এত অনুষঙ্গ, প্রাচীন অথচ ব্যবহারে অনিবার্য শব্দসমূহ দেখে। মনে হতেই হবে যে, ঋজু এবার কোন স্বাদ দিতে চায়!

 

দেখতে দেখতে এগিয়ে যাচ্ছেন মহাবিশ্বের রহস্যময় গোলকধাঁধায়। এ কাব্যে তার কবিতার শৈলি, তার শব্দ, তার কবিতার গতি, তার বাক্যপ্রবাহ পূর্ববর্তী কাজের চেয়েও স্পষ্টভাবে পৃথক করা যাবে। নির্জীব নির্জন থেকে তেজময় সতেজ সত্তায়। পিঙ্গল সন্ধ্যা থেকে নব প্রভাতের আলোকমঞ্জরিতে। জন্ম-মৃত্যু ও মায়ার রহস্য। এনেছেন দুঃখ-কষ্ট-জরা ও ব্যধির বন্দিবৃত্ত বিবরণ।

 

এই কবিতা, কবিতার দেহ ও আত্মা নতুন। এর স্বাদ ভিন্ন। এর আন্তব্যঞ্জনা অনন্যসাধারণ। এই বই ঋজু ভাইকে ভিন্ন মাত্রা দেবে। শরীর ও আত্মার দার্শনিক দৌড়ে ঋজুভাই আত্মার শক্তিতে শৌর্যবান হয়ে শরীরের ত্রুটি মেরামত করে দৃঢ়ভাবে ফিরে আসবেন এই আমার বিশ্বাস!

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post