ঈদসংখ্যা ২০২৬

ঈদসংখ্যা ২০২৬

স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার

সুলতান মাহমুদ


কিরে বাড়ি যাবি না? মুনিয়ার ছোট্ট প্রশ্ন।

নাহ্। ততধিক ছোট্ট উত্তর ফারিহার।

মুনিয়া আর ফারিহা দুজনেই ইডেন কলেজে পড়ে। বিষয় ইংরেজি সাহিত্য। আজিমপুরের একটি মেসে থাকে ওরা।

 

  -বাড়ি যাবি না এ আবার কি কথা? ঈদের ছুটিতে এখানে কি কাজ তোর?

  -বাড়ি যাওয়া নিয়ে আমার কোনো স্বপ্ন নেই।

  -ওসব হেঁয়ালি কথা রাখ। আচ্ছা তুই না বলেছিলি, তোর বাড়ি মাদারীপুর। আমার বাড়ি শরীয়তপুরে। একসাথেই তো যেতে পারি আমরা।

  -আসলে মাদারীপুরে আমার কোন বাড়ি নেই। আমার কেউ নেই।

  -কি বলছিস এসব?

  -কই এতদিন একসাথে আছি তুই তো বলিসনি কখনো?

  -তুই বাড়ি যা। আমাকে নিয়ে ভাবিস না। আমি একা থাকতে অভ্যস্ত।

  -তুই নিশ্চয়ই আংকেল আন্টির সাথে রাগ করেছিস?

  -তাহলেতো ভালোই হত।

  -কিসব উল্টাপাল্টা বকছিস। মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য পাগল। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সাথে আর কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। বাড়ি যাব এ কথার মাঝেই যেন একটা মায়া লুকিয়ে আছে। বাড়িতে মা-বাবা পথ চেয়ে আছে। ছোট্ট ভাই বোনেরা বার বার রাস্তায় এসে উঁকি দিচ্ছে। সমবয়সী বান্ধবীরা অপেক্ষা করছে। সে যে কি একটা অনুভূতি। এটা মনে হতেই আমি সব কষ্ট ভুলে যাই। মনে হয় আমার স্বপ্ন আমার আগে বাড়ি চলে যায়।

  -আমার বাড়ি যাওয়ার মতো কোনো সুখ স্মৃতি নেই। এসব অনুভূতি আমার হয় না। কেউ কোথায়ও আমার জন্য অপেক্ষা করে না। আমি জানি আমার বাড়ি মাদারীপুর। কিন্তু আমি জানি না কোথায় সেটা।

  -আমাকে একটু খুলে বলবি কী হয়েছে তোর?

  -তুই আমার সম্পর্কে কতটুকু জানিস মুনিয়া।

  -কিছুই না।

  -না জানিস সেই ভালো। তুই বাড়ি যা। আমার কথা ভাবিস না।

  -না আমি শুনতে চাই। কী এমন হয়েছে তোর। বল আমাকে।

  -আমার মনে একটা বেদনা ঘুমিয়ে আছে। তাকে ঘুমাতে দে। সে জাগলে আমার খুব কষ্ট হবে। তুইও কষ্ট পাবি।

  -তবুও আমি শুনতে চাই। তুই বল বান্ধবী। তোর কষ্টটুকুও আমাকে না জানালে আমি তোর কিসের বান্ধবী?

  -তখন আমার বয়স সম্ভবত চার বছর। আমরা ঢাকায় থাকি। দাদা দাদির সাথে ঈদ করতে আমার পুরো পরিবার গ্রামে যাচ্ছি। আমার মা, বাবা আমার ভাই। তখন পদ্মাসেতু ছিলো না। ঘাটে গিয়ে আব্বা আমাদের নিয়ে বোটে উঠলেন। ছোট্ট একটা বোটে ঠাসাঠাসি করে প্রায় ৩০-৩৫ জন মানুষ। আমার কেমন যেন ভয় করছিল। বাবা হেসে বল্লেন কিচ্ছু হবে না। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রবল বেগে ছুটে চললো বোটটি। আমরা আঁটসাঁট করে বসেছি। একটু নড়াচড়া করারও জায়গা নেই। বাবা হেসে অভয় দিলেন। মাত্র কয়েক মিনিটের পথ। আমরা ছুটছি বোটে চড়ে। বোটটি খুব দ্রুত চলছিল। আমরা প্রায় তীরে চলে এসেছি। হঠাৎ ঘাটে নোঙর করা একটি জাহাজের সাথে বোটটির সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তে বোটটি ভেঙে খান খান হয়ে যায়। এরপরে কিচ্ছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরে তখন আমার সামনে আমার পরিবারের সবার লাশ। আমার কান্না করার মত শক্তি ছিলো না। আমার দাদা সেদিন ছেলের লাশ দেখে স্ট্রোক করে। দাদিও পাগল হয়ে যায়। আমার কোনো আশ্রয় ছিল না। এ বিরাট পৃথিবীতে আমার থাকার জায়গা ছিল না। একটা মুহূর্তে একটা পরিবার যে তছনছ হয়ে যেতে পারে তার বড় উদাহরণ আমি নিজে। সরকারি এতিমখানায় মানুষ হয়েছি। এখন নিজেই টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। মুনিয়া কাঁদছে। এ মেয়েটা যে এত কষ্ট নিয়ে তার পাশে বাস করছে এটা সে এতদিন বুঝতে পারেনি।

  -আরে তুই কাঁদছিস কেন মুনিয়া?

  -তোর এত কষ্ট? তাই দেখে চোখে পানি চলে আসলো।

  -কিছু মানুষের জন্মই হয় কষ্ট পাওয়ার জন্য।

  -আর তোকে কষ্ট পেতে হবে না। আজ থেকে তুই আমার বান্ধবী না। আমার বোন। আমি আব্বু আম্মু কে জানিয়ে দিচ্ছি আমার সাথে আমার হারিয়ে যাওয়া বোনও বাড়ি আসছে।

  -সত্যি! আমি তোর বোন? এবার ফারিহার কান্না বাঁধ মানে না। সেও মুনিয়ার সাথে বাড়ি যাবে। যেখানে একটা পরিবার এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ফারিহা যেন স্বপ্নের আবেশ নিয়ে সে অপেক্ষারত পরিবারটিকে এক পলক দেখে নেয়।


সময় কঠিন

মোশার্রফ আলী


সময়টা কঠিন নয় সুকঠিন

কেমন করে তা বোঝা যায়

কারণ চলাফেরায় কঠিন

কাজে কর্মে আদান প্রদানে কঠিন।


ঈদের আনন্দ নেই

কেনাকাটায় আনন্দ নেই

তবে আনুষ্ঠানিকতা আছে

কাউকে কিছু দেয়াটা নিতান্তই কঠিন

তবে দিতে হয়, নিতে হয়

কারণ আনুষ্ঠানিকতাও কঠিন।


হাতে সীমিত আয়

তার উপর চলতে হয়

নেহাত প্রয়োজন ছাড়া কারো

বাজারে প্রবেশ করাও কঠিন।


প্রয়োজন ব্যতিরেকে

কেউ কিছু দুর্মূল্যের বাজারে ক্রয় করাটা কঠিন

সব কিছুতেই সীমিত চিন্তা

সকলের এতে নেই কোনো ভিন্নতা।


জোছনা প্লাবনে

খান মেহেদী মিজান 


গাছের পাতার ফাঁকে একফালি চাঁদ

বারে বারে দেখি তারে মনে জাগে সাধ।

ছাদে একা বসে আছি, সবুজের কাছাকাছি

জোছনা পেতেছে প্রেম-প্রণয়ের ফাঁদ।


আমি একা, চাঁদ একা; পাশে তারারাশি

বাতাসে কে বাজায় যেন বিরহের বাঁশি।

পুকুরের জলে ভেসে চিকচিক করে হাসে জোছনার গুড়া,

মনে আঁকা বৃক্ষটি ছুঁতে চায় আকাশের চূড়া।


বুঝিনা এ মনটি, অভিমানি নাকি অভিলাষি?

সব থাক। আমি একা-

জোছনা প্লাবনে যাবো ভাসি।


বোধ 

খান নজরুল ইসলাম

 

যখন আমি বাংলা বলি, বুক ভরে যায় গর্বে

বাংলা আমার নেচে ওঠে, নীরব হৃদয় মর্মে।

যখন আমি বাংলা বলি, ঋণ হয়ে যায় শোধ

মা’র শেখানো বুলি বলেই, হয়তো এমন বোধ!

ভাষা আমার আগে শেখা, পরে বাংলাদেশ

ভাষার সাথে এমন মিলে, আছে কোনো দেশ?

তৃপ্তি ভরা হাসি-কান্না, অবারিত সুখ মনে

পূর্ণ কী হয় অগাধ অর্থে? কাঁড়িকাড়ি ধনে?

রক্ত দিয়ে কেনা ভাষা, নয় করুণায় কারো

শ্রদ্ধাভরে বাঁচিয়ে রেখো, যতোটা তাই পারো!

অনেক রাষ্ট্রই রক্তেকেনা, ভাষা যে আর নাই

গভীর অনুভবে যে তাই, অগাধ তৃপ্তি পাই!!

ভাষার প্রতি সকল দেশে, নিবিড় ভালোবাসা

কেউ করেনা আপোষ-রফা নিয়ে মাতৃভাষা!

ভিন্নতা।

 

অপেক্ষা

নাজমুল হক

প্রিয় সরলতা

অগ্নিদগ্ধ রাতের পরে শিউলি ঝরা ভোর আমি
রুদ্ধ কান্নার কোণে জমে থাকা নীরব সলিল,
আমি তোমার ক্লান্ত ভাবনায় ছড়িয়ে দেয়া শান্তি
অস্থির হৃদয়ে বয়ে যাওয়া সমীরণ অবিচল।

তুমি যখন বিষাদের নোঙর ফেলো চোখের উপকূলে
আমি ঢেউ হয়ে ছুঁয়ে নিমিষেই মুছে দেই লবণের দহন,
তোমার ঝড় থেমে গেলে আমি রামধনু হয়ে--
ধূসরতার বুক চিরে তুলে ধরি রঙ্গিন প্রতিশ্রুতি ।

মহাকালের আঙ্গিনায় সময় যেমন চুলে ছিটায় রূপার ধুলো,
আমি তেমনি এনে দেই হাসির উজ্জ্বল আগুন, উনুনের আলো।
কপালের বলিরেখায় আঁকা চিন্তার খসড়ায় তোমার প্রতিচ্ছবি

চিরকাল এভাবেই থেকো তুমি
নরম, দৃঢ়, আলো ভরা চোখে রহস্য নিয়ে মনভরা অচিন সুরে,
আর আমি?
তোমার কবিতার উত্তরে লেখা নীরব এক দীর্ঘশ্বাস, যার নাম
অপেক্ষা।

 

ঈদের ছড়া

ইব্রাহিম খলিল

 

ঈদের ছুটির আমেজ মনে মন পড়ে রয় বাড়িতে

যানজটের এই শহরটাতে, সিট মেলেনা গাড়িতে।

দ্বিগুণ ভাড়া পুরান কথা এখন সেটা চার গুণে

যে যার মতো নিচ্ছে ভাড়া, রক্ত চুষে লাভ গুণে।

 

অনেক আগে ঈদের সময় এমন নীতি ছিলো না

রাস্তা ঘাটে বাড়তি ভাড়া বাড়তি কোন বিলও না।

মানুষ গুলো সভ্য ছিলো, আদব কায়দা তমিজে

ধনীর সাথে খেলতে যেতো গরীব ছেলে রমিজে।

 

সব কিছুতেই বিভেদ এখন স্নেহ মায়া কিচ্ছু নেই

যে যার মতো পরের ধনে ইচ্ছে মতো হাতটা দেই।

যাকাত দিতে কষ্ট লাগে হিসেব কষি একশো বার

লক্ষ টাকা যাকাত হলে দিচ্ছে না তার সিকি ভাগ

 

আগের দিনে গাও গেরামে দল বেধে সব বাচ্চারা

ঈদের দিনে মিলেমিলে খেলতো সবাই সাত চারা

এখন গ্রামে যে যার মতো পালন করে ঈদের দিন

হিংসা এবং লোভের কাছে পরাজিত মায়ার ঋণ।

 

ঈদের আনন্দ 

ইসরাত মিম 


চাঁদের হাসি ভাসে আকাশে, নরম সোনার আলো,

মনটা ভরে সুখের ঢেউ, লাগে কত ভালো।

নতুন জামায় খুশির রঙে সবাই মেতে রয়,

ঈদের দিনে দুঃখ কষ্ট--কারো যেন না হয়।

ভোরের বেলা নামাজ পড়ে--শান্তি নামে প্রাণে,

দোয়ার সুরে ভরে ওঠে ভালোবাসার টানে।

কোলাকুলি, সালাম দিয়ে মিটে যায় সব রাগ,

হৃদয় জুড়ে সুখের ছোঁয়া মুছে দেয় সব দাগ।

সেমাই-পায়েস মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে ঘরে,

ছোটদের হাসি ঝরে পড়ে আনন্দ ভরা স্বরে।

আত্মীয়-স্বজন মিলে গড়ে সুখের মধুর মেলা,

ঈদের দিনে ভুলে যাই দুঃখ-কষ্টের বেলা।

দুঃখীদের মুখে ফোটে হাসির ছোট্ট ফুল,

সহানুভূতির ছোঁয়ায় ভরে মনের সব ভুল।

হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে ধরি সবার হাত,

ঈদ শেখায় একসাথে বাঁচার সঠিক পাঠ।

এই আনন্দ থাকুক সবার হৃদয়েরই মাঝে,

ভালোবাসা ছড়িয়ে যাক পৃথিবীরই সাজে।

ঈদের খুশি রবে যেন বছরজুড়ে প্রাণে,

সুখের ছোঁয়া বয়ে যাক সবার জীবনের গানে।



ঈদ যাপন 

সুলতান মাহমুদ 


১.

আমাদের ঈদ ছিল খুব সাধারণ

রোজা শেষে ঈদ ছিল খুশির কারণ

খুব ভোরে ঘোলা জলে সাঁতার কেটে

বাড়ি ফিরতাম ঈদের গোসল সেরে

পায়জামা পাঞ্জাবি সাথে লাল টুপি

ঝাল ঝাল খিঁচুড়ি; দুধ-সেমাই-চিনি

ঈদগাহে দেখা হতো কত লোকজন

মোনাজাতে খোদা প্রেমে আপ্লুত মন

হাসি মুখে কথা হতো সকলের তরে

কেউ আজ শত্রু নয় বন্ধু সবে

বড়দের সম্মান ছিল যথাযথ

ছোটদের সালামি হতো আর কত

সেই নিয়ে ছোটদের খুশি দেখে কে

এক টাকা পেলে যেন একশ মেলে!


২.

আমাদের ঈদ ছিলো শান্তির পায়রা

এখন ঈদ কেন অশান্তির ফোয়ারা

চাঁদ রাত হতে সেই যে শুরু

কান ফাটা শব্দে বুক কাঁপে দুরু

বড়দের সম্মান উঠছে লাটে

মোটর গাড়ি চলে খুব দাপটে

এখন ঈদের দিনে খুশি আসেনাকো

বিবর্ণ ছন্দে মন হাসেনাকো

রমজানের রোজা শেষে এ কেমন যাপন

মানুষকে কষ্ট দিয়ে নাহোক বিকৃত উদযাপন


বইমেলা এবং লেখকের ঈদ বনাম সার্বজনীন ঈদ

ইয়াসিন আযীয 

 

অনেক জল্পনা কল্পনা এবং অনেক প্রকাশকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অমর 'একুশে বইমেলা ২০২৬' ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ শুরু হয়ে, শেষ হয় ১৫ মার্চ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্টল ভাড়া ৫০% ছাড় দিয়েও প্রকাশকদের সাড়া পাচ্ছিল না। পরবর্তীতে নতুন নির্বাচিত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি করে দিলে প্রকাশকরা মেলায় অংশগ্রহণ করতে সম্মত হয়। এই অচলাবস্থা মূলত সৃষ্টি হয়েছিল নির্বাচনের কারণে। প্রতি বছর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেও এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রায় শেষ সপ্তাহে চলে যায়। অনেক প্রকাশক রমজানের কারণে মেলা ঈদের পরে আয়োজনের পক্ষে মত দেন। সরকারসহ অনেকে আবার ফেব্রুয়ারি মাসের মেলা ফেব্রুয়ারি মাসে করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকে। ঈদের পর মেলার ক্ষেত্রে ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে মনে হয়েছিল। বই মেলা শেষ হওয়ার একদিন আগে আমার সেই আশঙ্কা সত্যি হতে দেখতে পাই।


বই মেলা একজন লেখকের কাছে ঈদের আনন্দের চাইতে কম নয়। কিন্তু এবারের বই মেলায় সেই আনন্দে আন্দলিত হতে পারেননি লেখকগন। বই মেলা জমে ওঠার প্রধান শর্ত হচ্ছে লেখক, পাঠক, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হওয়া। রমজান মাস চলমান থাকায় লোক সমাগম তেমনটা এবার ঘটেনি। বিষয়টি আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। তাই অনেক বড় বড় প্রকাশনীকে আগের বছরগুলোর তুলনায় অর্ধেক পরিমাণ জায়গা নিয়ে স্টল সাজাতে দেখতে পাওয়া যায়।


আমি একজন লেখক এবং পাঠক হিসেবে মাত্র একদিনই মেলায় উপস্থিত ছিলাম। আমি অল্প কিছুক্ষণ অবস্থান এবং ঘোরাঘুরি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ফলে আমার লিস্টে থাকা যেসব বই কেনার কথা ছিল তা ক্রয় করার জন্য আমি নির্ধারিত স্টল খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ফলে সবগুলো স্টলে আমার যাওয়া হয়নি। বইও কেনা হয়নি পূর্ববর্তী বছরের মতো। এরপর ইফতার ও তারাবি নামাজের জন্য তাড়াও ছিল। ফলে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় সন্ধ্যার পর মেলায় অবস্থানের সময়ও আমার কমে যায়।


বই কেনা বর্তমানে অনেকের কাছে সৌখিন পণ্যের মতো হয়ে গেছে। অনেকে বই পড়ুক বা না পড়ুক বই কিনে বুক শেলফে সাজিয়ে রাখে। অনেকে ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজনের জন্য ঈদে নতুন পোশাক ক্রয় করতে হিমশিম খান। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এবারের রমজান মাসের মেলায় বই কেনা হয়নি অনেকেরই। রমজান এবং ঈদের কারণে লোক সমাগম ও বেচাবিক্রি কম হবে, অনেক প্রকাশকের এই যৌক্তিক কারণটাই ছিল বই মেলা ঈদের পর করার পেছনে।


যাইহোক, বই মেলা শেষ হতে হতেই চলে এসেছে ঈদ। আমরা লেখক, পাঠক এবং প্রকাশকগণ বই মেলার এবারের আয়োজনের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করতে না পারলেও ঈদুল ফিতরের আনন্দ সার্বজনীন ভাবে উৎযাপন ও উপভোগ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে সকলের প্রতি প্রত্যাশা রাখছি। পাশাপাশি আগামী বছর এবারের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বই মেলা হবে ঈদের মতোই আনন্দময়। একজন লেখক হিসেবে এই আশায় বুক বেঁধে আছি।


 


1 Comments

  1. প্রতিটি লেখা দারুণ। সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক

    ReplyDelete
Post a Comment
Previous Post Next Post