একগুচ্ছ সরল কাব্য :: নাজমুল হক

একগুচ্ছ সরল কাব্য :: নাজমুল হক

একগুচ্ছ সরল কাব্য :: নাজমুল হক

#১ ধুপ !! 

দগ্ধ ভীষন বুকের কোনায়

হৃদয় পোড়ার গন্ধ খুব,

মন আকাশে সন্ধ্যে নামে

গন্ধ ছড়ায় জ্বালাও ধুপ !

ধুপের গন্ধে সুর বাজালো

তিন শঙ্খে অসুর বধ,

ব্রহ্মা,মহেশ্বর ডাকছে শঙ্খ

বিষ্ণু ডাকেও নিরাপদ !


দগ্ধ জীবন ছাইয়ের নিচে

জ্বলছে শুধু প্রেমের ঢেউ,

চাঁদের মুখে রক্তরেখায়

জোছনালো গিলছে কেউ !

আগুন জ্বালায় প্রলয়গীতি

ধূপে মেশে কান্নার সুর,

শঙ্খ বাজে দিক বেদিকে

মরছে অসুর জাগছে নূর !


ধূপের ধোঁয়ায় দেবতা নামে

শঙ্খে বাজলো উলুধ্বনি

ব্রহ্মা হাসছে বিষ্ণুর টানে

মন খারাপে দুর্গা রানী !

ধূপের ছোঁয়ায় প্রাণ জেগেছে

ছাইয়ে লেখা মুক্তির গান,

অসুর মরলো,জাগলো মানুষ

যত্নে বাড়লো অভিমান ॥


#২ভুল

আমার ভেতর অভিমানের মেঘ

বাঁধছে দানা বিরহের আবেগ,

ফুঁসছে শরীর ঝড়ে ভাঙার আগে

বুকে কাঁপন বিষণ্ণতার রাগে!


তোমার চোখেও কষ্ট নোনা জল

চাওয়া পাওয়ার হঠাৎ রদবদল,

লোভের চালে হারতে বসা খেলা

জীবন মানে শুধুই অবহেলা!


আমার চোখে স্বপ্ন দেখার ঘরা

ঘুমের বাজার হঠাৎ ভীষণ চড়া,

যাচ্ছি করে সুখী থাকার ভান

বুকের মাঝে তোমার ভীষণ টান!


তোমারও তো ঘুম আসে না রাতে

একা বসে কাঁদো স্মৃতির সাথে,

অকাতরে খসছে মনের বুনন

একটা ভুলে জ্বলছে দুটি উনুন!


#৩ নীল নয়না

আমায় নিয়ো নীল নয়না

ভাসিয়ে প্রেমের বাণে

মন হারিয়ে শরীর যখন

শুধুই ভাটায় টানে,

মনের ঘরে কত্ত যে নাম

শরীর তোকে চায়

অথৈ জলে তীর হারিয়ে

শুধুই উজান বায়!


আমায় খুঁইজো সুভাষিণী

শ্যাওলা ঘন প্রেমে

ক্লান্তি মাখা উদোম দুপুর

জিরিয়ে নিয়ো থেমে,

সুখের পরাগ গায়ে মেখে

কষ্ট ভোলার দিনে

সম্বন্ধের এই বেড়ি পায়ে

জড়িয়ে যেয়ো ঋণে!


আমায় ভেবো সুহাসিনী

স্বপ্ন দেখার ছলে

শীত সকালে গতর ধুইয়ো

উষ্ম কুসুম জলে,

গন্ধমাখা সাবান জলে

শরীর ভিজে যায়

চোখটা শুধু আটকে থাকে

আলতা মাখা পায়!


আমায় ডেকো সুকেশিনী

ফুরিয়ে যাবার আগে

সুখগুলো সব বিলিয়ে দিবো

দুঃখ আমার ভাগে,

তুমি নামক রোগ ধরেছে

একলা থাকা দায়

নোনা জলে ভিজছে শরীর

তোমার অপেক্ষায়!


#৪ সর্বনাশ

কার হাত কে ধরেছে

কে বসেছে পাশে

তোর দুঃখে কে কাঁদে

কে হাসে উল্লাসে!


কার ছবি কে তোলে

দেখে কার ফোনে

চোখের আঁকা ছবি

ভাসে যে গোপনে!


কার বাতি কার ঘরে

নিভু নিভু জ্বলে

অনিচ্ছার মুহূর্তগুলো

না বাঁধি আঁচলে!


কার মন কার বুকে

আজ, গড়িল বসত

সময়ের সাথে চিত্ত

কেন এতটা অসৎ?


এমনি গোলক ধাঁধায়

জীবন সর্বনাশে

আমায় ফাঁসিয়ে দিয়ে

দেখ, ঈশ্বর হাসে!


#৫ অবজ্ঞা

তোমার করা অবজ্ঞায়

বুক ভেসে যায় জলে

এখন নাকি শূন্যে বসত ন

থাকো না আর স্থলে?


মঙ্গলেতে দিন কাটিয়ে

ঘুমাও চাঁদের বুকে

সূর্যমামা সকাল বিকাল

দিচ্ছে সালাম ঝুঁকে?


হরহামেশা রকেট চড়ে

যাচ্ছ কফি শপে

দূর আকাশের তারা নাকি

তোমার নামই জপে?


এখন নাকি সাহস ভীষণ

বাড়ছে বুকের পাটা

সময়কেও দিচ্ছ জ্ঞান

থামিয়ে ঘড়ির কাঁটা?


তবে কেন রাত্রি বেলায়

হঠাৎ ডুকরে কাঁদো

সংগোপনে ছাদের কোনায়

দীর্ঘশ্বাসে ডাকো?


#৬ মুখোশ

সত্য সদা আড়াল খোঁজে

মিথ্যে বাতাস উড়ছে খুব,

খেলছে জীবন নানা রঙে

ভুল পথেই দিচ্ছে ডুব।


সদ্য পাখায় উইপোকারা

উঠছে নামছে বারংবার,

আগুন জ্বলা জোনাকি দল

দেখছে চোখে অন্ধকার।


মরা হাতি বিকোয় লাখে

চামচিকারও হচ্ছে লোভ,

সরল পথে হোঁচট খেয়ে

মনের কোণে পোষে ক্ষোভ।


আপন আলোয় সত্য ভাসে

মিথ্যে ছবির প্রচার চাই,

শহরজুড়ে চলছে খেলা

তোমার নামে হাতেম তাই।


মুখোশ পরা শহরটাতে,

খুঁজলে সরস আপন নাই,

ভবের এই দুনিয়াতে

আসল ফকির লালন সাঁই।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post