আবু ইসহাক স্মরণে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ
তারুণ্যের সংগঠন ‘আবু ইসহাক
সেন্টার ফর ইয়ুথ’ এর আয়োজনে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাসের স্রষ্টা,
কালজয়ী কথাসাহিত্যিক ও অভিধান প্রণেতা
আবু ইসহাক স্মরণে আলোচনা সভা, গল্প লেখা প্রতিযোগিতা ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের
মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ খ্রি. সকাল ১০
ঘটিকায় নড়িয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে। জমকালো অনুষ্ঠানটিতে পবিত্র কোরআন থেকে
তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা সামসুল আলম রিফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গল্পলেখা
প্রতিযোগিতা ২০২৫ এর আহ্বায়ক নাহিয়ান খান স্বাগত বক্তব্য এবং উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আমেনা সারার
উপস্থাপনায় ও শামসুল আলম রিফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আব্দুল কাইয়ুম খান। প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সাহিত্য বিবর্জিত সমাজ ব্যবস্থার কারণে আমাদের সমাজের ছেলেমেয়েরা
মোবাইল ও নানাবিধ নেশার দিকে ঝুকে পড়েছে। তাই তোমরা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছো
বিশেষকরে যারা আজকের এই সুন্দর আয়োজন করেছেন তাদের প্রতি একটাই আমার অনুরোধ থাকবে,
মাদককে না বলি এবং বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলি। আমরা আমাদের প্রিয়জনের হাতে
বই উপহার দেবো।’ তিনি কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পরে একটি সুন্দর সময় বের করে কালজয়ী কথাসাহিত্যিক
আবু ইসহাকের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িতে একটি সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
অনুষ্ঠানে কথা
সাহিত্যিক আবু ইসহাকের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রখ্যাত
প্রাবন্ধিক ও লোকজ গবেষক, কবি শ্যামসুন্দর দেবনাথ। প্রাবন্ধিক শ্যামসুন্দর দেবনাথ
এর প্রবন্ধ পাঠের উপর প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের
সহকারি অধ্যাপক (বাংলা) রীনা রানী দাস। বিশেষ আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন নড়িয়া
পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল হক। ‘কীর্তিনাশার কাব্যের’
সম্পাদক কবি খান মেহেদী মিজান। আলোচনা করেন ‘কীর্তিনাশার কাব্যের’ নির্বাহী
সম্পাদক কবি ও গল্পকার ইয়াসিন আযীয; কবি ও সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ। আয়োজক কমিটির সভাপতি কে
এম ধ্রুব এবং ‘জাতীয় কবিতা মঞ্চ, শরীয়তপুর’ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ‘ওসমান আয়নামতি
সাহিত্য ফাউন্ডেশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছড়াকার রফিক ওসমান প্রমূখ। আলোচকগণ আবু
ইসহাকের উপন্যাস, গল্প এবং অভিধান রচনার প্রেক্ষাপট, সাহিত্য মূল্য, প্রাসঙ্গিকতা,
গভীরতা এবং প্রথম প্রকাশের বাধাসহ অন্যান্য বিষয়ের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়াও তার কর্ম জীবন ও সূর্য দীঘল বাড়ি উপন্যাস অবলম্বনে চলচিত্র নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়েও
আলোচনা করা হয়। আলোচকগণ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ডিভাস থেকে দূরে থেকে বই পাঠে
মনোনিবেশের লক্ষ্যে বিভিন্ন উপদেশ দেন।
সবশেষে গত নভেম্বরে আয়োজিত আবু ইসহাকের ৯৯তম
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গল্পলেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং উপস্থিত শিক্ষার্থিদের মধ্যে
আবু ইসহাকের জীবন ও কর্ম নিয়ে কুইজ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য
যে, গল্পলেখা প্রতিযোগিতা নন-একাডেমি ও একাডেমি দুটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। ৮০ জন অংশগ্রহণকারির
মধ্যে মোট ২০ জনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীরা হলেন:
বিভাগ: নন-একাডেমি
v ইয়সিন
আযীয
v খান
মেহেদী মিজান
v চিরঞ্জিৎ
সাহা
v জান্নতুল
ফেরদৌস ফাতেমা
v সুলতান
মাহমুদ
v স্বপন
মাঝি
বিভাগ: একাডেমি
v আমেনা
সারা
v আব্দুল্লাহ
কাওসার
v ইমরুল
কায়েস
v তিথি
কীর্তনীয়া
v ফাইরুজ
অনিকা জাহান
v মুহাঃ
তাসদীকুল হক
v মোহাম্মদ
শাহীন
v স্বীকৃতি
ইসলাম ছোঁয়া
v সাইমা
জাহান সঙ্গী
v সামান্তা
আক্তার
v সুমাইয়া
v সৈয়দ
জাওয়াদ নূরী
v হ্যাপি আক্তার
v মো: আব্দুল আলী
বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃত ও সমাদৃত করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিমনা ও সৃজনশীল মানুষের অংশগ্রহণে হয়ে উঠে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।
