অ্যান কারসন এর নোবেল জয়
আশরাফ জুয়েল
সকল জল্পনাকল্পনাকে সরিয়ে এবার সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন।
কারসন একজন কবি, প্রাবন্ধিক, ক্ল্যাসিকসের অধ্যাপক এবং অনুবাদক। নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ- এ ড্যাফনি মারকিন লিখেছিলেন, সমকালীন কবিতার খোঁজখবর রাখেন- এমন ছোট্ট পরিসরের মানুষের কাছে কারসন “বড় জায়গা করে নিয়েছেন; একই সঙ্গে ঈর্ষা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছেন।” তাঁর প্রকাশনা-জীবনকে “শ্রেণিবিন্যাসের অতীত” বলা হয়। এই সময়ে তিনি সমালোচকদের স্বীকৃতি যেমন পেয়েছেন, তেমনি গড়ে তুলেছেন ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠী।
সাফো ও ইউরিপিদিসের মতো প্রাচীন লেখকদের বহু প্রশংসিত অনুবাদের পাশাপাশি কারসন প্রকাশ করেছেন কবিতা, প্রবন্ধ, লিব্রেত্তো, গদ্যসমালোচনা এবং পদ্য-উপন্যাস- যেসব রচনা প্রায়ই একাধিক সাহিত্যধারার সীমা অতিক্রম করে। অসাধারণ পাণ্ডিত্যের জন্য পরিচিত কারসনকে মারকিন “অসাধারণ প্যাস্টিশ-রচয়িতাদের একজন” বলেছেন। তবে তাঁর কবিতা একই সঙ্গে হৃদয়বিদারকও হতে পারে। প্রেম, কামনা, যৌন আকাঙ্ক্ষা ও হতাশা নিয়ে তিনি নিয়মিত লেখেন।
বিষয় বা সাহিত্যরূপ- যেটাই হোক, কারসনের লেখায় থাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা। দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড সম্পর্কে মারকিন লিখেছিলেন, “রবার্ট লওয়েলের লাইফ স্টাডিজ-এর পর অ্যান কারসন যে পথে এগোচ্ছেন, আমার মনে হয় না আর কোনো বই কবিতাশিল্পকে এতটা নতুনভাবে এগিয়ে নিয়েছে।” তাঁর সাম্প্রতিক সংকলনগুলোর মধ্যে রয়েছে নক্স (২০১০), রেড ডক (২০১৩) এবং ফ্লোট (২০১৬)। গুগেনহাইম ফাউন্ডেশন, ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশন ও বার্লিনের আমেরিকান একাডেমির ফেলোশিপসহ তিনি বহু সম্মাননা পেয়েছেন। পেয়েছেন ল্যানান সাহিত্য পুরস্কার, পুশকার্ট পুরস্কার এবং গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজও।
কারসনের জন্ম ১৯৫০ সালে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের টরন্টোতে। উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় লাতিনের এক শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই শিক্ষক দুপুরের খাবারের বিরতিতে তাঁকে প্রাচীন গ্রিক ভাষা শেখাতে রাজি হন। এই অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে প্রাচীন গ্রিক ও হেলেনীয় সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি করে—যার প্রভাব আজও তাঁর লেখায় আছে।
কারসন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের আগে তিনি দুবার পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন; এর মধ্যে রয়েছে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ইরোস দ্য বিটারসুইট: অ্যান এসে দিয়ে তাঁর প্রকাশনা-জীবন শুরু হয়। বইটি প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য অনুসারে নিজের লেখার ধরন গড়ে তোলার তাঁর প্রবণতাও প্রতিষ্ঠা করে। গ্লাস, আয়রনি, অ্যান্ড গড (১৯৯২), প্লেইনওয়াটার: এসেস অ্যান্ড পোয়েট্রি (১৯৯৫) এবং মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স (২০০১)-এর মতো বই তাঁকে সমকালীন কবিদের মধ্যে অনন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে তাঁর বিশেষত্বের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ সম্ভবত পদ্য-উপন্যাস অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: আ নভেল ইন ভার্স (১৯৯৮) এবং দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড: আ ফিকশনাল এসে ইন ২৯ ট্যাঙ্গোস (২০০১)।
অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (১৯৯৮) হারকিউলিসের কিংবদন্তি থেকে সূত্র নেয়। স্টেসিকোরাসের কাহিনিতে, প্রচলিত বানানে হেরাক্লিস, তাঁর দশম শ্রমে লাল ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করতে যান। কাহিনিটিকে আধুনিক সময়ে এনে কারসন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেন। নিউ রিপাবলিক-এ অ্যাডাম কির্শ লিখেছিলেন, “স্টেসিকোরাসের কাহিনিতে হেরাক্লিস গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গবাদিপশু চুরি করেন। কারসনের কাহিনিতে হেরাক্লিস গেরিয়নের হৃদয় ভেঙে তার নিষ্পাপতাও কেড়ে নেন।”
দুই চরিত্রের পরিচয় হয় কৈশোরে। গেরিয়ন তখনও লাল, তার ডানাও আছে; সে সংবেদনশীল, সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা এক স্কুলছাত্র। অন্যদিকে হেরাক্লিস আকর্ষণীয়, বিদ্রোহী, বেপরোয়া। তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, পরে তা ভেঙে যায়। শিকাগো রিভিউ-এর মার্ক হ্যালিডে লিখেছিলেন, “গেরিয়নের আত্মা-ছিঁড়ে-যাওয়া সর্বগ্রাসী ভালোবাসার সমান হতে পারে না হেরাক্লিসের ভালোবাসা।”
বহু বছর পর বুয়েনস আয়ার্সে তাদের আবার দেখা হয়। সেখানে গেরিয়ন হেরাক্লিস ও তার নতুন প্রেমিক আনকাশকে ঘিরে এক ধ্বংসাত্মক ত্রিমুখী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বইটি বিভিন্ন সাময়িকীতে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। হ্যালিডে বইটিকে “ইচ্ছাকৃতভাবে খামখেয়ালি এবং আনন্দের সঙ্গে অদ্ভুত” বলে বর্ণনা করেন। দ্য নেশন-এর সমালোচক ব্রুস হেইনলি কারসনকে “হৃদয়ভাঙার দার্শনিক” বলেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ কবিতাটি “আকাঙ্ক্ষা, প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাস, আগ্নেয়গিরি এবং দেখা ও অন্ধত্বের আনন্দময় নিষ্ঠুরতা নিয়ে এক অসাধারণ বই।”
কারসনের গদ্যের মতো দেখতে কবিতার ধরন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রতিধ্বনি তুলে কির্শ প্রশ্ন করেন, বইটির উপশিরোনামে যে পদ্যের প্রতিশ্রুতি আছে, কারসন তা সত্যিই দিয়েছেন কি না। তাঁর ভাষায়, “লেখাটি স্পষ্টতই গদ্য—লম্বা ও ছোট লাইনে সাজানো; ছন্দ বা মাত্রার কোনো কঠোর নিয়ম নেই। দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত লাইনের পার্থক্য মূলত মুদ্রণরীতির, বড়জোর বাক্যগঠনের।”
কারসনের এই উপাখ্যান পুরস্কার-নির্বাচকদের নজরও কাড়ে। তবে টাইম ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদক ক্যাথরিন গভিয়ারের মতে, অটোবায়োগ্রাফি অব রেড “প্রথমে বিজয়ী বই হিসেবে শুরু হয়নি।” তিনি লিখেছিলেন, “প্রকাশের পর খুব কম মনোযোগ পেয়েছিল… নানা জায়গার লেখকেরা কেবল বইটি নিয়ে কথা বলতেন। কুইবেকের QSPELL কবিতা পুরস্কার জেতার পর সেই কথাবার্তা আলোচনায় রূপ নেয়।”
পরে বইটি ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল পুরস্কারের মনোনয়ন পায়। এর ফলে কানাডায় জন্ম নেওয়া কারসন প্রথম দুই অ-মার্কিন লেখকের একজন হিসেবে ওই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পান।
এই মুখে-মুখে ছড়িয়ে পড়া সাড়া কারসনের আরেকটি বই ইরোস দ্য বিটারসুইট (১৯৮৬)-এর গ্রহণযোগ্যতার কথাও মনে করিয়ে দেয়। বস্টন রিভিউ-এ জন ডি’আগাটা লিখেছিলেন, বইটি “প্রথমে গ্রিক গবেষণার কাজ হিসেবে ক্ল্যাসিকসের মহলকে বিস্মিত করেছিল; তারপর সেনেকা, মনতেঁ ও এমারসনের রচিত গীতিময় প্রবন্ধের ধারায় এক অনুপ্রাণিত প্রত্যাবর্তন হিসেবে নন-ফিকশন জগতকে বিস্মিত করেছিল; আর তারপর, নব্বইয়ের দশকের অনেকটা সময় পেরিয়ে, সাহিত্য হিসেবে নতুন নকশায় প্রকাশিত হয়ে শেষ পর্যন্ত কবিদের বিস্মিত করেছিল।”
ডি’আগাটার মতে, কারসনের আগের প্রবন্ধগুলো তাঁর কবিতার সর্বত্র উপস্থিত। পাশাপাশি আছে ধ্রুপদি ভাষার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ। ডি’আগাটা বলেন, কারসনের কাজ পাঠককে ভাবতে শেখায়: “একটি কবিতা অন্য কিছুতে পরিণত হওয়ার আগে- গদ্য বা প্রবন্ধে ফিরে যাওয়ার আগে- কতটা গদ্যধর্মী, বাগ্মিতাপূর্ণ বা যুক্তিনির্ভর হতে পারে?”
মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স- সংক্ষিপ্ত কবিতার একটি বই- এ রয়েছে “শোকলিপি, প্রেমের কবিতা, পদ্য-প্রবন্ধ, স্মারকধর্মী গদ্য, কথিত টেলিভিশন নাটকের ‘শুটিং স্ক্রিপ্ট’ এবং চিত্রকর্মকে উদ্দেশ করে লেখা কবিতা,” লিখেছিলেন পাবলিশার্স উইকলি-এর স্টিফেন বার্ট। বইটি ব্যাপক প্রশংসা পায়। সেলন-এ পর্যালোচনা করতে গিয়ে কেট মোজেস একে সময় নিয়ে ধ্যান হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষায়, বইটি “সময় নিজের পেছনে যে ভোজ সাজিয়ে রাখে, তার সবকিছুই ধারণ করে- জীবন, যৌনতা, প্রেম ও মৃত্যু।”
বইটি গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজ পায় এবং গভর্নর জেনারেলস লিটারারি অ্যাওয়ার্ড ও ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়। ২০০১ সালে কারসন প্রকাশ করেন দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড: আ ফিকশনাল এসে ইন ২৯ ট্যাঙ্গোস। এটি একটি পদ্য-উপন্যাস, যার বিষয় “বিবাহ ভাঙনের প্রেক্ষাপটে কামনার অস্থিরতা ও হৃদয়ের বিচ্ছিন্নতা”- লিখেছিলেন ড্যাফনি মারকিন। বইটি প্রশংসিত হয় এবং টি. এস. এলিয়ট পুরস্কার পায়। ২০০০ সালে কারসন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের “জিনিয়াস” অনুদানও পান।
২০০১ সালের সাফল্যের পর কারসন প্রকাশ করেন ডিক্রিয়েশন (২০০৫)- কবিতা, প্রবন্ধ ও অপেরার সমন্বয়ে তৈরি একটি বই। এতে আছে সংক্ষিপ্ত গীতিকবিতা, চিত্রনাট্য, ওরাতোরিও এবং দীর্ঘ গদ্যাংশ; যেখানে সাহিত্যসমালোচনা ও দার্শনিক অনুসন্ধান মিলেমিশে গেছে। বইটির শিরোনাম ও মূল ভাবনা এসেছে দার্শনিক সিমোন ভেইলের একটি ধারণা থেকে। কারসনের ব্যাখ্যায়, ভেইলের “ডিক্রিয়েশন” হলো “আমাদের ভেতরের সেই সত্তাকে ভেঙে দেওয়া-যে সত্তা নিজের মধ্যে আবদ্ধ এবং নিজের দ্বারাই সংজ্ঞায়িত।”
ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এ ডেরিন রিস-জোনস লিখেছিলেন, “ডিক্রিয়েশনের মধ্য দিয়ে- নিজের সত্তাকে বিলীন করার মধ্য দিয়ে- আমরা মহাবিশ্বের সঙ্গে সুর মেলানো এক অধিবিদ্যক পূর্ণতা খুঁজে পেতে পারি।” ডিক্রিয়েশন সর্বত্র প্রশংসা পায়। গার্ডিয়ান-এ বইটি পর্যালোচনা করে ফিওনা স্যাম্পসন বলেন, এটি “সমকালীন সাহিত্যে কর্মরত সবচেয়ে স্বতন্ত্র মেধাগুলোর একটির পরিচয় দেয়”; নানা সাহিত্যরূপে বিস্তৃত হলেও এটি “সবচেয়ে বেশি করে অননুকরণীয় কবিতা।”
কারসন ধ্রুপদি লেখকদের অনুবাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্দীপক কাজ করে চলেছেন। তাঁর গ্রিফ লেসনস: ফোর প্লেজ বাই ইউরিপিদিস (২০০৬) এবং অ্যান অরেস্তেয়া (২০০৯) দুটিই সমালোচনার জন্ম দেয়। পেলোপনেশীয় যুদ্ধের সময় ইউরিপিদিস ছিলেন আলোচিত নাট্যকারদের একজন। গ্রিফ লেসনস-এ তাঁর তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত চারটি ট্র্যাজেডি রয়েছে। নিউ ইয়র্কার-এ হিলটন অলস লিখেছিলেন, বইটি “মতাদর্শের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের ভেতরকার বিপদগুলো বোঝার এক ধরনের প্রাথমিক পাঠ।”
পাবলিশার্স উইকলি-এর এক পর্যালোচকের মতে, “কারসন নিঃসন্দেহে অসাধারণ- শব্দচয়নে অবিচলভাবে তীক্ষ্ণ, স্বাধীনতা নেওয়ার ক্ষেত্রে দুঃসাহসী, আবার বিচারে সংযত।”
কারসনের পরবর্তী অনুবাদ অ্যান অরেস্তেয়া। আতরেয়ুসের বংশের নিয়তি নিয়ে রচিত নাটকগুলোর এই সংকলনে রয়েছে এস্কাইলাসের আগামেমনন, সফোক্লিসের ইলেক্ট্রা এবং ইউরিপিদিসের ওরেস্তেস। অনুবাদে কারসনের স্বাধীনতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ-এ ব্র্যাড লাইথহাউসার কারসনের শব্দচয়নকে অনিয়মিত এবং প্রায়ই এমন আধুনিক বলে মনে করেন, যা বেমানান লাগে। তাঁর ভাষায়, “কারসনের অনুবাদে একটি সমন্বিত সুর খুঁজে পাইনি। তাঁর শব্দচয়ন কখনো এত নিচে নেমে আসে যে, আমি ভুলে যাই- আমি এমন মানুষদের নিয়ে পড়ছি, যাঁরা দেবতুল্য মহিমার অধিকারী।”
দ্য নেশন-এ এমিলি উইলসন বলেন, কারসন একজন পণ্ডিত হিসেবে তিন নাট্যকারের পার্থক্য সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন হলেও, “তাঁদের কণ্ঠস্বরকে যথাযথভাবে আলাদা করে তুলতে পুরোপুরি সফল হননি।” তবে উইলসনের মতে, কারসনের অনুবাদ “এস্কাইলাসের অরেস্তেয়া-র স্পষ্ট মতাদর্শ থেকে সরে ইউরিপিদিসের ওরেস্তেস-এর অনেক বেশি জটিল ও দ্ব্যর্থক জগতে এগিয়ে যায়।” এ কারণেই কাজটি আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং “বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক।”
কবি-সমালোচক স্টেফানি বার্টের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কারসন স্বীকার করেছিলেন, মনের গভীরে তিনি নিজেকে শব্দের নয়, দৃশ্যের শিল্পী মনে করেন। তিনি বলেন, “আমি বিশের কোঠায় পৌঁছানোর আগে খুব বেশি লিখিনি, কারণ আমি ছবি আঁকতাম। ছোটবেলায় শুধু ছবি আঁকতাম, কখনো কখনো তার ওপর কিছু লিখতামও; কিন্তু মূল আগ্রহ ছিল আঁকায়। নিজেকে কখনো লেখক বলে ভাবিনি!”
প্রশংসিত বেশ কয়েকটি বই প্রকাশের পরও তিনি বলেন, “এখনো যে নিজেকে লেখক মনে করি, তা নিশ্চিত নই। আমি জানি, আমাকে কিছু একটা তৈরি করতেই হয়। আমাদের সংস্কৃতিতে বই এমন একটি সুবিধাজনক মাধ্যম, যার ভেতর নানা কিছু তৈরি করা যায়। কিন্তু বইয়ের প্রতি আমার সন্তুষ্টি ক্রমেই কমছে। আমার কোনো ভাবনাই বইয়ের মধ্যে পুরোপুরি ধরে না।”
