ইব্রাহিম খলিলের একগুচ্ছ কবিতা (ভাত সিরিজ)
নিতান্তই দুমুঠো ভাতের জন্য
এই শহরে আসা,
বাবার উঠান, ঝিঙ্গে ফুলের
মাচা—
ফেলে আসতে হয়েছে মুহুর্তেই!
এখন আমার প্লেট জুড়ে চিকন
চালের সাদা ভাত
মুক্তো দানার মতোই চকচক করে।
এখন বড্ড ফ্যাকাশে হলুদ
বিবর্ণ।
ভাতের সংগ্রাম
হঠাৎ
করেই বাবার অকাল মৃত্যুর পরে
বিধবা
মায়ের একাকী সংগ্রামী জীবন
সন্তানের
মুখের অন্ন জোগাতে—
নিজের
কথা ভাববার সময়ও পাননি মা
অভাবের
করাল স্রোতে।
দুমুঠো
ভাতের জন্য... কেবল দুমুঠো ভাতের জন্যই
তার
সম্ভাবনাময় স্বপ্নকে মাটি চাপা দিতে হয়েছে।
মা
আজও তার সন্তানকে আগলে রেখেছেন।
অথচ,
আজ
তার ছেলেটিও বাবা হয়েছে।
সুঠাম—কর্মঠ—প্রতিষ্ঠিত
আজ
হয়তো তার বাবা বেঁচে নেই
কিন্তু
সুগন্ধি চালের সাদা ভাতের থালা জুড়ে—
বাবার
হাতের স্পর্শ খুঁজে বেড়ায় প্রতিনিয়ত।
সাদা
পান্তা ভাত
সবুজে সবুজে দোল খায় ফসলের
পর ফসল
হঠাৎ একরাশ দখিনা বাতাস,
মুহুর্তেই হেসে ওঠে মেছতা
পাটের খেত
এক প্রহর নিড়ানি শেষে বাবার
ক্লান্ত শরীর
এলিয়ে দেয় বটের ছায়।
খেতের আইল ধরে এক হাতে পানির
জগ
আর অন্য হাতে গামছায় বাধা
গামলা।
আধ গামলা পানির ভেতর
শৌল পোনার মতো ডাগর চোখে,
চেয়ে আছে কৃষকের দিকে
গত রাতের বেঁচে যাওয়া সাদা
পান্তা ভাত।
পথের
ভাত
প্রতিদিন একবার হলেও এই
ডাষ্টবিনটায় আসতে হয়
পশ এলাকার ময়লার ভাগাড় বলে
কথা।
উঁচুতলার মানুষগুলো বড্ড
বেহিসেবী।
শিশুদের ভেঙে যাওয়া দামি
খেলনার পাশাপাশি
প্রতিদিনই কিছু না কিছু
খাবার ফেলে দেয়।
কী অদ্ভুত! তাদের ফেলে দেওয়া
কনডম—
আর স্যানিটারি ন্যাপকিনের
পলিথিনের পাশেই
হয়তো অন্য কোনো পলিথিনে—
গত রাতে কারো ফেলে দেয়া ভাত
তরকারি,
ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে
রাস্তার অনাথ বেওয়ারিশ
শিশুটির দিকে।
আহ ভাত!
কেউ হয়তো আলিশান ডাইনিংয়ে
বসে আয়েশ করে খায়
আবার কেউ হয়তো
চাতকের মতো ময়লার ভাগাড়ে
তাকায়।
ঘুরুক
ক্ষুধার বাঁক
পেটের চুলায় জ্বললে আগুন
ক্রোধে ভরে বুক,
ভাতের ক্ষুধা ভাতেই মেটে
অন্যতে নেই সুখ।
ধান ছিটালাম চালের আশায়
চালের থেকেই ভাত,
আর না কাটুক এই অভাগার
উপোষ কোনো রাত।
কিন্তু খেতে ছো মেরেছে
পঙ্গপালের ঝাঁক,
পেটের দ্বারে খিল মারো ভাই
ঘুরুক ক্ষুধার বাঁক।
ইব্রাহিম খলিলের আরো লেখা পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
একগুচ্ছ কবিতা :: ইব্রাহিম খলিল
.jpeg)